ADVERTISEMENT

নবিজী (সা.) কোন তাওবাহ পড়তেন এবং পড়তে বলতেন?

ইসলাম ডেস্ক |

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞ বান্দা হতে প্রতিদিন তাওবাহ-ইসতেগফার করতেন। তিনি তাঁর উম্মতকেও তাওবাহ-ইসতেগফার করতে বলতেন। কিন্তু তিনি তাওবাহ-ইসতেগফারে কী পড়তেন এবং পড়তে বলতেন?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে তাওবাহ-ইসতেগফারে পড়তেন এবং অন্যদের তাওবাহ-ইসতেগফার পড়তে বলতেন। তিনি ছোট-বড় অনেক তাওবাহ পড়তেন। যেসব তাওবায় মেলে সব সমস্যার সমাধান। প্রিয় নবির পড়া ছোট্ট তাওবাটি হলো-

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ القَيّوُمُ وَأَتُوبُ إِلَيهِ

উচ্চারণ : ‘আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম; আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

অর্থ : ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। আমি তাঁর কাছে (গুনাহের কাজ থেকে) ফিরে যাচ্ছি।

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি নিয়মিত ইসতেগফার পড়লে আল্লাহ তাআলা তাকে সব বিপদ থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করবেন, সব দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, বায়হাকি)

আবার তিনি প্রায় সময় আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ কামনায় কোরআনের একটি আয়াতের দ্বারা তাওবাহ করতেন। তাহলো-

হজরত আবদুল আজিজ ইবনে সুহাইব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন, হজরত কাতাদাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি একবার হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করেন- নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিকাংশ সময় কোন দোয়া পড়তেন? আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি অধিকাংশ সময় এ দোয়া পাড়তেন-

اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা আজাবান নারি।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদের দুনিয়ায় কল্যাণ দান করুন। এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন। আর জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান।’ (বুখারি ও মুসলিম)

আসুন জেনে নিই, তাওবাহ কি? এবং কীভাবে এ তাওবাহ করতে হয়?

তাওবাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে- ফিরে আসা। অর্থাৎ গুনাহ থেকে ফিরে আসা। তাওবাহ কবুল হওয়ার জন্য রয়েছে কিছু শর্ত। শর্ত পূরণ হলেই আল্লাহ তাআলা সেই তাওবাহ কবুল করবেন। তাহলো-

১. গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। এখন মুখে মুখে তাওবাহ করে নিই; কিছুদিন পর গুনাহের কাজ ছেড়ে দেব, এরকম তাওবাহও কবুল হবেনা।

২. আগের সব গুনাহ ও ভুল-ত্রুটি স্বীকার করে আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।

৩. অন্তরে খারাপ কাজের প্রতি ঘৃণা রেখে গুনাহের কাজে আবার ফিরে না যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে হবে।

৪. আল্লাহর কাছে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে সব গুনাহের জন্য ইসতেগফার করতে হবে অর্থাৎ ক্ষমা চেয়ে তাওবাহ করতে হবে। তাওবাহ হচ্ছে গুনাহের কাজ ছেড়ে দিয়ে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ফিরে আসতে হবে।

৫. কারো হক বা অধিকার নষ্ট করে থাকলে যেভাবেই হোক তাকে তার পাওনা ফিরিয়ে দিতে হবে। সামর্থ্য না থাকলে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে তার হক মাফ করিয়ে নিতে হবে।

৬. অন্তরে এই আশা রাখা যে, মানুষ গুনাহগার কিন্তু আল্লাহ হলেন- গাফুরুর রাহিম- তিনি অতীব ক্ষমাশীল ও দয়ালু। সুতরাং যে যতবড় গুনাহগার হোক না কেন, তিনি বান্দার তাওবাহ কবুল করবেন ইন শা আল্লাহ। অন্তরে আল্লাহর প্রতি এই আশা ও ভালো ধারণা রাখতে হবে।

৭. তাওবাহ করার পর গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা করতে হবে। এবং সাধ্য অনুযায়ী বেশি করে নেকির কাজ করার চেষ্টা করতে হবে। কারণ, নেক কাজ গুনাহকে মোচন করে।

৮. সব গুনাহের কাজ থেকেই তাওবাহ করা ফরজ। যে পাপ কাজ থেকে তাওবাহ করা হলো, কেউ যদি কোনো ভুলে, কুপ্রবৃত্তির কারণে বা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে সেই গুনাহের কাজ পুনরায় করে ফেলে; তবে সঙ্গে সঙ্গে আন্তরিকভাবে তাওবাহ করে নিতে হবে। ওই গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য, তাওবাহ করলে আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেন, এমনকি কারো পাপ জমীন থেকে আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেও সে যদি আন্তরিকভাবে তাওবাহ করে; তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। যদি বান্দার কোনো হক না থাকে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, প্রিয় নবির শেখানো তাওবাহ বেশি বেশি করা। গুনাহ করা থেকে বিরত থাকা। কোনো কারণে গুনাহ হয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। বিষয়টি বান্দার হকের সঙ্গে জড়িত হলে ওই ব্যক্তি থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।

মহান আল্লাহর অনুগত বান্দা হতে বেশি বেশি তাওবার বিকল্প নেই। তাই আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় প্রিয় নবির শেখানো ও দিকনির্দেশনা দেওয়া তাওবাহটি বেশি বেশি করার তাওফিক দান করুন। গুনাহ না করলেও এ তাওবাহটি বেশি বেশি করার তাওফিক দিন। সম্ভব হলে সাইয়েদুল ইসতেগফার পড়ার তাওফিক দিন। আমিন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.