ADVERTISEMENT

কসাই যখন বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট গায়ে!

অনলাইন ডেস্ক:

পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট গায়ে দিয়ে জনগণকে শান্ত থাকার জন্য হ্যান্ডমাইকে অনুরোধ করছেন এক ব্যক্তি। তাকে দেখে পুলিশের কর্মকর্তা বা সদস্য মনে করে ভুল করতে পারেন অনেকেই।

তিনি আসলে পুলিশ নন, সোর্স। পেশায় তিনি কসাই বা মাংস ব্যবসায়ী। এ কাজের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির সোর্স ও মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে কাজ করেন তিনি।

তার নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরআবাবিল গ্রামে তার বাড়ি। সোমবার বিকালে রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিআইপি বেড়িবাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে স্থানীয় জনতাকে শান্ত থাকার জন্য মাইকিং করতে দেখা যায় তাকে।

পুলিশ না হয়েও পুলিশের দায়িত্ব পালনে এমন আচরণ জনমনে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুকে ওই ঘটনার ছবি পোস্ট করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অনেকেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, রোববার ইউপি নির্বাচনের পরদিন সোমবার বিকালে দুই সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী হায়দারগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক হাসান জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাস্থলে যান।

এ সময় পুলিশের গাড়িতে করে সেখানে যান কসাই জাহাঙ্গীর হোসেন। পুলিশের একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট গায়ে দিয়ে গাড়ি থেকে বের হন তিনি। হ্যান্ডমাইকে জনতার উদ্দেশে তাদের শান্ত থাকার ঘোষণা দিচ্ছিলেন জাহাঙ্গীর। পুলিশের ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ জ্যাকেট কীভাবে এক সোর্স ব্যবহার করতে পারেন এবং পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন সেই প্রশ্ন রাখেন স্থানীয়রা।

হায়দরগঞ্জ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, জাহাঙ্গীর চরআবাবিল গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে। তিনি হায়দারগঞ্জ বাজারের গোশত ব্যবসায়ী। এছাড়া হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির চিহ্নিত দালাল। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দালালি করে থাকে। দালালির বিষয়টি জাহাঙ্গীর নিজেও স্বীকার করেছেন।

জাহাঙ্গীর বলেন, আমি ফাঁড়ির গাড়িতে করেই ঘটনাস্থলে যাই। তাদের দেওয়া বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে হ্যান্ডমাইকে জনতাকে শান্ত হতে অনুরোধ জানাই। আসলে আমি ছোট মানুষ। তাই বিষয়টি বুঝতে পারিনি। রায়পুর থানার ওসি স্যার দেখে আমাকে বকা দিলে আমি তা খুলে ফেলি। এলাকার ছোটখাটো সমস্যা বা সালিশ হলে লোকজনের পক্ষে থানায় যাই। পুলিশ আমাকে এবং আমিও তাদের সহযোগিতা দিয়ে থাকি।

রায়পুর উপজেলার হায়দারগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হাসান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, জ্যাকেটটি পরে তিনি ঠিক করেননি। আমরা বলার পর সঙ্গে সঙ্গে তিনি খুলে ফেলেছেন। এটা একটি ভুল বোঝাবুঝি।

যুগান্তর অনলাইন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.