যে অনুশীলনই হতে পারে শারীরিক যন্ত্রণা ও মানসিক চাপ থেকে মুক্তির পথ

অনিয়মের কারণে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লম্বা হচ্ছে প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধের তালিকা। অল্প বয়সেই নানা রকম রোগে ভুগছেন বিভিন্ন অনিয়মের কারণে। আর তাই ফিট থাকতে নিয়ম করে শরীরচর্চা করুন। আর এক দাওয়াইতেই গায়েব হতে পারে হাজার রোগ।

তবে কাজের ব্যস্ততা আর সংসারের দায়িত্ব সামলে জিমে যাওয়ার সময় হয়তো আপনি পান না। কিন্তু ইচ্ছে থাকলে বাড়িতেই আধাঘণ্টা সময় বের করে যোগাসন কিংবা ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। কেবল রোগা হতেই নয়, নানা রকম রোগবালাই দূরে রাখতেও নিয়ম করে যোগাসন করা প্রয়োজন।

তাই শরীর চাঙ্গা রাখতে নিয়ম মেনে যোগাসন করলে তবেই মিলবে ফল। মুশকিল আসান করার পদ্ধতির জেনে নিন। আজকের ব্যায়াম কাষ্ঠ তক্ষণাসন।

কাঠুরেরা যেভাবে কাঠ কাটেন, সেই ভঙ্গিতে কাষ্ঠ তক্ষণাসন আসনটি করা হয়। আর সেই সময় কাঠুরেরা কাঠ কাটার সময় তাদের জমে থাকা রাগ, দুঃখ, ভয় ও অবদমিত ইচ্ছা উজাড় করে দেন। এ অভ্যাসে এই গতিশীল অনুশীলন প্রতিদিনের জীবনে শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

মনে মনে ভাবুন, আপনি দুই হাত দিয়ে একটি ভারি কুঠার শক্ত করে ধরে আছেন। এটিই হলো আসন শুরুর প্রথম ভঙ্গি। আর ম্যাটের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়ান। এরপর দুই পায়ের মধ্যে ফাঁক রাখুন। ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে দুই হাতে ভারি কুঠার ধরে তোলার ভঙ্গি করুন। এরপর ধীরে ধীরে মাথার ওপর দিয়ে পেছনের দিকে কাল্পনিক কুঠার তুলুন। মেরুদণ্ড সামান্য পেছনে হেলান। এবার শ্বাস ছেড়ে মুখ দিয়ে ‘হা’ শব্দ করে পায়ের মাঝখানে রাখা কাল্পনিক ভারি কাঠ কাটার ভঙ্গিতে দ্রুত নামান মুঠো করা হাত। এরপর হাঁটু সামান্য ভাঁজ হবে। কিন্তু লক্ষ রাখবেন, পা যেন মাটি থেকে ওপরে উঠে না যায়। এভাবে সম্পূর্ণ করুন।

আবার শুরুর ভঙ্গিতে গিয়ে দুই হাত ওপরে তুলে কাঠ কাটার ভঙ্গি করুন। এই ভাবে ৫–৭ রাউন্ড অভ্যাস করতে হবে। প্রতিবার দ্রুত শ্বাস ছাড়তে হবে এবং মুখ দিয়ে জোরে ‘হা’ শব্দ করতে হবে। এর ফলে আপনার মানসিক চাপ দূর হবে।

নিয়মিত কাষ্ঠ তক্ষণাসন অভ্যাস করলে আপনার কোমর ও নিতম্বের পেশিতে রক্ত চলাচল বাড়ে। এর ফলে এই অংশের পেশি উজ্জীবিত হয় এবং টান টান থাকে। এ আসনটির আরও একটি বিশেষ কার্যকারিতা আছে। আপনার কাঁধ ও পিঠের ওপরের দিকের পেশি সচরাচর খুব বেশি ব্যবহার না হওয়ায় সেখানে আড়ষ্ট ভাব চলে আসে। ব্যথা বাড়ে। এ আসনটি অভ্যাস করলে কাঁধ ও পিঠের ওপরের দিকের পেশির সঞ্চালন হয়। আবার শ্বাস ছাড়ার সময় মুখ দিয়ে ‘হা’ শব্দ করার নানা ভালো দিক আছে। এর ফলে মনের মধ্যে জমে থাকা রাগ, দুঃখ ও ভয় দূর হয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.