শিশুর ট্রমা ও বাবা-মায়ের করণীয়

father comforting stressed sad crying son, parenting support
বাবা-মা সবসময় চান তাদের সন্তান যেন ভালো থাকে, নিরাপদে থাকে, হাসিখুশি থাকে। কিন্তু জীবন সব সময় আমাদের চাওয়ার মতো চলে না। অনেক সময় আমাদের আদরের সন্তানটি এমন কিছু দেখে বা অনুভব করে, যা তার কোমল হৃদয়ে গভীর কষ্ট তৈরি করে। একেই বলে ট্রমা বা মানসিক আঘাত।

ট্রমা কী ধরনের হতে পারে?
ট্রমা হতে পারে অনেক কিছুর কারণে:

১। কেউ যদি শিশুটিকে কষ্ট দেয় বা অপমান করে

২। যদি সে ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেখে বা দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়

৩। যদি প্রিয় কেউ মারা যায় বা পরিবারে ভাঙন ঘটে

৪। যদি সে গৃহহীন হয়ে পড়ে বা অসুস্থ হয়

এই ঘটনাগুলো শিশুদের মনে ভয়ের ছায়া ফেলতে পারে, যেন তাদের আশেপাশের পৃথিবীটাই বদলে গেছে।

এই আঘাত শিশুদের মনে কী প্রভাব ফেলে?
ট্রমার পর শিশুরা অনেক রকম অনুভব করতে পারে:

১। তারা আতঙ্কিত থাকে, ছোট ছোট জিনিসেও ভয় পায়

২। মন খারাপ থাকে, কখনো হঠাৎ রেগে যায়, আবার কখনো চুপচাপ হয়ে যায়

৩। অনেকেই ভাবে, ‘আমার জন্যই এসব হয়েছে’

৪। কেউ কেউ নিজের মন খারাপ গোপন করে রাখে, যেন কেউ বুঝতেই না পারে

৫। এমনও হয়, শিশুটি রাতে ঘুমাতে পারে না, দুঃস্বপ্ন দেখে বা বারবার সেই ঘটনার কথা মনে পড়ে। কারো কারো আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন আসে — স্কুলে মনোযোগ কমে, বন্ধুদের এড়িয়ে চলে, বা খুব চুপচাপ হয়ে যায়।

এই সময় বাবা-মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যদি পাশে থাকেন, মনোযোগ দেন, ভালোবাসা দেন— তাহলে আপনার সন্তান ধীরে ধীরে আবার আগের মতো হয়ে উঠতে পারে।

কী করতে পারেন আপনি?

১। সময় দিন
প্রতিদিন কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটান। ওর সঙ্গে গল্প করুন, হাঁটুন, একসঙ্গে রান্না করুন, খেলুন বা শুধু বসে থাকুন। এই ছোট ছোট সময়গুলোই ওর মন শান্ত করবে।

২। নরম, ভালোবাসার ভাষা ব্যবহার করুন
আপনার সন্তানের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। ওর ভুল হলে ধৈর্য ধরুন, বুঝিয়ে বলুন। যখন ও চেষ্টা করছে, তখন প্রশংসা করুন। বলুন, ‘আমি তোমার জন্য গর্বিত।’

৩। ভালোবাসা প্রকাশ করুন
একটা আলিঙ্গন, একটা মমতাভরা হাসি, মাথায় হাত রাখা — এসবের মাধ্যমে ও বুঝবে, আমি একা না, মা-বাবা আমার পাশে আছেন।

৪। শান্ত রুটিন তৈরি করুন
ঘুমানোর আগে গল্প বলা, গান গাওয়া বা আলিঙ্গন করে শুভরাত্রি বলা শিশুর মনে নিরাপত্তা আনে। এই ছোট্ট অভ্যাসগুলো ওর মনকে সাহস জোগায়।

প্রিয় বাবা-মা, ট্রমা কাটিয়ে ওঠা সময়সাপেক্ষ, কিন্তু আপনার ভালোবাসা, মনোযোগ আর সহানুভূতি — এগুলো শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় ভরসা। আপনি ওর পাশে আছেন, সেটাই ওর সবচেয়ে বড় শক্তি। আপনার একটুখানি মনোযোগ, একটুখানি সময় —আপনার সন্তানের জীবনে আলো হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র : কিডস হেলথ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.