টেকনোলজির এই যুগে আমাদের সকালটা শুরু হয় মোবাইলে চোখ রেখে। রাতে ঘুমানোর আগেও চোখ থাকে মোবাইলে। এ দৃশ্য আজকাল খুব সাধারণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে অন্ধকারে মোবাইল ফোন ব্যবহারও দিন দিন বাড়ছে।
সারা দিনের কাজের শেষে যেন মোবাইলে চোখ না রাখলে ঘুমই আসতে চায় না। কিন্তু রাতের অন্ধকারে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেই যে বিপদ, তা অনেকে জানেন না। এর ফলে চোখের ওপর বিরাট খারাপ প্রভাব পড়ে।
রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইলে সামাজিক মাধ্যম স্ক্রল করা, ই-মেইল চেক করা বা ভিডিও দেখা, এই জিনিসগুলো প্রায় সাধারণ হয়ে উঠেছে।
কখনো ভেবে দেখেছেন যে অন্ধকারে ফোন ব্যবহার করলে চোখের ওপর কতটা খারাপ প্রভাব পড়তে পারে? যখন কেউ অন্ধকারে ফোনের দিকে তাকান, সেই সময় চোখে উজ্জ্বল আলো পড়ে। আর অন্ধকারের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে পেতে সমস্যা হয়। যা শুধু চোখের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে না, মস্তিষ্ক ও ঘুমকেও প্রভাবিত করতে পারে।
অন্ধকারে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কী কী অসুবিধা হতে পারে, তা নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক।
নীল আলোর প্রভাব
ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো যেকোনো ব্যক্তির চোখের রেটিনার ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। যা চোখের ক্লান্তি, শুষ্ক চোখের সিন্ড্রোম (ড্রাই আই) এবং ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হতে পারে। তাই রাতের বেলা আলো বন্ধ রেখে বা অন্ধকারে বসে ফোন ব্যবহার করা ঠিক নয়।
ডিজিটাল আই স্ট্রেন
ফোনের স্ক্রিনের দিকে ক্রমাগত তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের চাপ হয়, যাকে ডিজিটাল আই স্ট্রেন বলে। এর উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে ঝাপসা দৃষ্টি, চোখে জল গড়ানো ও মাথাব্যথা।
এই সব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রাতের অন্ধকারে ফোন ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ কিছু হলে ফোন ব্যবহারের সময় স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমিয়ে রাখতে পারেন। এ ছাড়া স্ক্রিনে নীল আলো ফিল্টার (ব্লু লাইট ফিল্টার) অন করতে পারেন।
এ ছাড়া প্রত্যেকেরই ঘুমের ক্ষেত্রে ২০-২০-২০ ফর্মুলা ব্যবহার করা উচিত। যাতে ২০ মিনিট পরে চোখকে ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকাতে হবে। ঘুমোনোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। আর চোখের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে নিয়মিত চেকআপ করানো উচিত।
সূত্র : টিভি ৯ বাংলা






