শিক্ষা একসময় যাকে বলা হতো মানবিক উন্নয়নের সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তি, আজ সেই শিক্ষাই অনেক পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা সব ক্ষেত্রেই ব্যয়বৃদ্ধির প্রভাব এখন স্পষ্ট। শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে শুরু করে গ্রামীণ এলাকার স্বল্প আয়ের মানুষ সবার মুখেই প্রশ্ন একটাই: শিক্ষার খরচ এত বেশি কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার ব্যয় বাড়ার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয় ভাড়া, বিদ্যুৎ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদের খরচ। পাশাপাশি স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল টুলস, আইসিটি ল্যাবসহ আধুনিক সুবিধা যুক্ত করার ব্যয়ও শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পরিবারকে।
নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কারিকুলামভেদে ফি-সংক্রান্ত বৈষম্যও স্পষ্ট। ব্রিটিশ কারিকুলামে একজন শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন গড়ে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা, ভর্তি ফি ৫০ থেকে ৭০ হাজার পর্যন্ত। অর্থাৎ বছরে একজন শিক্ষার্থীর পিছনে খরচ হয় ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা। বিপরীতে ন্যাশনাল কারিকুলামে মাসিক বেতন মাত্র ৭০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ভর্তি ফি ৫ থেকে ১০ হাজারের মধ্যে। যেখানে বছর শেষে দাঁড়ায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। একই শহর শুধু স্থান এবং শিক্ষার মান ভেদে খরচটা ভিন্ন।—তবুও খরচে এতো বড় পার্থক্য অভিভাবকদের মধ্যেও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
এছাড়া কোচিং-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। টিউশন ফি, কোচিং, বই-খাতা, ইউনিফর্ম, পরিবহন ও অতিরিক্ত কার্যক্রম সব মিলিয়ে একটি পরিবারের মাসিক বাজেটে যে চাপ তৈরি হয়, তা অনেক সময়ই সামর্থ্যের বাইরে চলে যায়।
ফলাফল শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের সামনে প্রশ্নটা থেকেই যায়: মানসম্মত শিক্ষা কি কেবল সামর্থ্যশালীদের জন্যই? নাকি সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নতুন করে ভাবতে হবে শিক্ষানীতিকে?






