যে ৫ আমলে ভালো কাটে সারাদিন

একজন মুমিনের জন্য দিনের শুরুটাই তার সারাদিনের মানসিক অবস্থা, আমল এবং বরকতের ভিত্তি তৈরি করে। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন কিছু আমল শিখিয়েছেন, যা সকালেই পালন করলে পুরো দিনটি আল্লাহর হেফাজত, রহমত ও প্রশান্তিতে কাটে। এই ছোট কিন্তু শক্তিশালী আমলগুলো দুনিয়ার শান্তির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির পথও সুগম করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল এবং সন্ধ্যায় এমন কিছু বিশেষ জিকির ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা পাঠ করলে সারা দিনের নিরাপত্তা ও বরকতই লাভের পাশাপাশি আখিরাতের কঠিন সময়েও তা মুক্তির মাধ্যম হবে।

১. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার

যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এই দোয়াটি পড়বে এবং ওই সময়ের মধ্যে মারা যাবে, সে জান্নাতি হবে।

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা-ইলা-হা ইল্লা আন্তা খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহ্দিকা, ওয়া ওয়াদিকা মাসতোয়াতাতু, আউজুবিকা মিন শাররি মাসানাতু, আবুউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ লাকা বিজাম্বি, ফাগফিরলি। ফা ইন্নাহু লাইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্লাহ আন্তা।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর অটল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আপনার দেওয়া নিয়ামতের স্বীকারোক্তি দিচ্ছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি। তাই আমাকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।’ (বুখারি ৬৩০৬)

২. বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষার দোয়া

সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার এই দোয়াটি পড়লে আসমান ও জমিনের কোনো অনিষ্ট তার ক্ষতি করতে পারবে না। তাহলো—

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ: ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস্সামাই ওয়া হুয়াসসামিউল আলিম।’

অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (আবু দাউদ ৫০৮৮, তিরমিজি ৩৩৮৮)

৩. তাসবিহ পড়া

سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ

উচ্চারণ: ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’

অর্থ: ‘আল্লাহ পবিত্র, এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য।’ (মুসলিম ২৬৯২)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার এই তাসবিহ পড়বে, কেয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল আর কেউ আনতে পারবে না (যদি না কেউ একই বা তার চেয়ে বেশি পড়ে)।৪. আয়াতুল কুরসি পাঠ

প্রতি ফরজ নামাজের পর এবং সকালে ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। এটি পাঠকারীকে জান্নাতে যাওয়ার পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না এবং এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা দেয়। তাহলো—

اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلۡحَیُّ الۡقَیُّوۡمُ ۬ۚ لَا تَاۡخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّ لَا نَوۡمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یَشۡفَعُ عِنۡدَهٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِهٖ ؕ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ مَا خَلۡفَهُمۡ ۚ وَ لَا یُحِیۡطُوۡنَ بِشَیۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرۡسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ ۚ وَ لَا یَـُٔوۡدُهٗ حِفۡظُهُمَا ۚ وَ هُوَ الۡعَلِیُّ الۡعَظِیۡمُ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম। লা তা-খুযুহু সিনাতু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস-সামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল-আরদ। মান যাল্লাযি ইয়াশ ফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইযনিহি, ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইইম-মিন ইলমিহি ইল্লা বিমা শা আ, ওয়াসিয়া কুরসিইউহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিইয়ুল আজিম।’

অর্থ: ‘আল্লাহ! তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনি স্বাধীন ও নিত্য নতুন ধারক, সব কিছুর ধারক। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাকে স্পর্শ করে না। নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই তার। কে আছে এমন, যে তার অনুমতি ছাড়া তার কাছে সুপারিশ করতে পারে? সম্মুখের অথবা পশ্চাতের সবই তিনি অবগত আছেন। একমাত্র তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া, তার জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। তার আসন আসমান ও জমিন ব্যাপী হয়ে আছে এবং উভয়ের সংরক্ষণে তাকে বিব্রত হতে হয় না। তিনিই সর্বোচ্চ, মহীয়ান।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৫৫, নাসাঈ ৯৯২)

৫. তাওয়াক্কুলের দোয়া

যে ব্যক্তি এই দোয়াটি সকালবেলা সাতবার এবং বিকেলবেলা সাতবার বলবে, তার দুনিয়া ও আখিরাতের সব চিন্তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন। তাহলো—

حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ، وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণ: ‘হাসবিয়াল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুয়া, আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়াহুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।’

অর্থ: ‘আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি তাঁর ওপরই ভরসা করি। তিনি মহান আরশের প্রতিপালক।’ (আবু দাউদ ৫০৮১)

সকালের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ আমলগুলো একজন মুমিনের জীবনকে বদলে দিতে পারে। এগুলো শুধু কিছু দোয়া বা জিকির নয়—বরং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে দৃঢ় করার এক অনন্য মাধ্যম। নিয়মিত আমল করলে দুনিয়ায় প্রশান্তি, নিরাপত্তা ও বরকত যেমন মিলবে, তেমনি আখিরাতেও হবে মুক্তির কারণ। তাই প্রতিদিনের শুরুটা হোক আল্লাহর স্মরণে—তাহলেই পুরো দিনটি হবে আলোকিত ও কল্যাণময়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.