ADVERTISEMENT

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের এক নীরব পথিকৃৎ নোয়েল মেন্ডিজ মারা গেছেন

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাস যখন লেখা হবে, তখন কিছু নাম হয়তো অনেকটাই পেছনে পড়ে থাকবে। কারণ তারা সেই সময়ের তারকা ছিলেন না, যখন ব্যান্ড সংগীত মূলধারায় আসেনি। বরং তারা ছিলেন সেই নীরব পথিকৃৎ, যারা স্বাধীনতাপূর্ব সময়েই দেশের মাটিতে ব্যান্ড মিউজিকের বীজ বুনেছিলেন। তেমনই একজন ছিলেন নোয়েল মেন্ডিজ, যিনি সম্প্রতি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

নোয়েল মেন্ডিজ ছিলেন চট্টগ্রামের প্রথম ব্যান্ড ‘লাইটেনিংস’-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। অনেকেই হয়তো জানেন না, ঢাকার বাইরে ব্যান্ড সংগীতের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই লাইটেনিংস। ১৯৬৫ সালে স্কুলপড়ুয়া কয়েকজন তরুণের হাত ধরে এই ব্যান্ডের জন্ম। ঢাকায় তখন সবেমাত্র ‘আইওলাইটস’ নামের প্রথম ব্যান্ডটি কার্যক্রম শুরু করেছে।

লাইটেনিংস ব্যান্ডের লাইন-আপে ছিলেন চারজন: নোয়েল মেন্ডিজ (রিদম গিটার), তার ভাই নিও মেন্ডিজ (ড্রামার), শাকিল (লিড গিটার) এবং ব্যান্ড লিডার রশিদ (বেজ গিটার)। প্রথমে তারা চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদে নিয়মিত পারফর্ম করতেন, এরপর শহরের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও পাড়া-মহল্লায় তাদের সংগীত ছড়িয়ে পড়ে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকার ফাইভ স্টার হোটেলেও তারা পারফর্ম করেছেন। সে সময় ব্যান্ডগুলোর প্রধান আকর্ষণ ছিল ইংরেজি কাভার গান। বাংলা রক তখনো আসেনি, সেটা আসে স্বাধীনতার পর।

১৯৬৮ সালে ঢাকার বিখ্যাত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের চাম্বেলি রুমে একটি ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ‘সেরা ব্যান্ড’ বাছাই করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল লাইটেনিংস। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল তখনকার জনপ্রিয় ব্যান্ড উইন্ডি সাইড অব কেয়ার (আইওলাইটস) এবং র‍্যাম্বলিং স্টোন্স। সেবার যদিও ‘আইওলাইটস’ সেরা ব্যান্ডের খেতাব জিতে নেয়, তবুও লাইটেনিংসের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, সেই সময়ে তারা কতটুকু পরিচিতি ও সম্মান অর্জন করেছিল।

১৯৬৯ সাল থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পর্যন্ত দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সব ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯৭২ সালের আগস্ট মাসে লাইটেনিংস ব্যান্ডটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের যাত্রা শেষ করে। সদস্যরা কেউ অন্য ব্যান্ডে যোগ দেন, আবার কেউবা সংগীত থেকে দূরে সরে যান।

নোয়েল মেন্ডিজের মতো শিল্পীরা কখনো পাদপ্রদীপের আলোয় আসেননি। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিকের ভিত্তি স্থাপনে তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশের মিউজিক জগতে একটি নতুন ধারার সূচনা হয়েছিল। তাদের এই অবদান চিরকাল অমূল্য হয়ে থাকবে। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.