চট্টগ্রাম শহরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলোর মধ্যে একটি হলো পাঠানটুলি। পুরোনো চট্টগ্রামের ইতিহাস ঘাটলে পাওয়া যায়, এই নামের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ কাহিনী, যা আজও স্থানীয়দের মুখে মুখে চলে আসছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, মোগল আমলে চট্টগ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে পাঠান সম্প্রদায়ের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। পাঠানরা মূলত সৈন্যবাহিনীর অংশ হিসেবেই এখানে এসেছিলেন। কেউ কেউ আবার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ও পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগ রক্ষার কাজে যুক্ত হন। এভাবেই ধীরে ধীরে পাঠান সম্প্রদায়ের বসতি গড়ে ওঠে নগরীর এই অংশে। ফলে এলাকার নাম হয়ে যায় পাঠানটুলি।
পাঠানদের আগমন ও এ অঞ্চলে স্থায়ী বসবাসের কারণে এলাকাটির নাম পাঠানটুলী। মূলত: প্রাচীনকালে মুসলমানদের চট্টগ্রাম বিজয়কালে পাঠানদের আগমন ঘটে। ১৫৩৮ সালে সম্রাট শেরশাহের সময়ে এ ধারা আরো বেগবান হয়। ১৩৩৮ সালে মূলত:পাঠানরা প্রথম চট্টগ্রাম আসেন। পাঠানরা স্বাধীনচেতা। ইংরেজরা পাঠানদের সহ্য করতে পারতেন না।
শুধু ইতিহাস নয়, পাঠানটুলি আজও চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। কাপড়, আসবাবপত্র, লোহা-লক্কড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্পের ব্যবসা এখন এই এলাকাকে জমজমাট করে রেখেছে। তবে পুরোনো দিনের সেই পাঠান সংস্কৃতির ছাপ আর তেমন নেই।
চট্টগ্রামের পুরোনো এই এলাকা শুধু একটি নাম নয়—এটি ইতিহাসের অংশ, যা স্মরণ করিয়ে দেয় অতীতের গৌরব, প্রভাব এবং নগরীর বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্যকে। পাঠানটুলি আজকের চট্টগ্রামের আধুনিকতার সঙ্গে মিশে থাকলেও এর নামের ভেতর এখনো লুকিয়ে আছে প্রাচীন দিনের গল্প।






