চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, গাছ কেটে সিআরবিতে কখনো কোনো হাসপাতাল কিংবা স্থাপনা আমরা করতে দেব না এবং এটা চট্টগ্রামবাসী কখনো মেনে নেবে না।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে নগরীর জামালখান লিচু তলা এলাকায় ‘নগরীর খাল-নালা পরিষ্কারে বিশেষ কার্যক্রম’ উদ্বোধন এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে কথা বলেছেন উল্লেখ করে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, পুরোনো যে হাসপাতালটা আছে, সে হাসপাতালটা তিনি দেখবেন। ওই হাসপাতালটার ইনফ্রাস্ট্রাকচার (অবকাঠামো), ওইখানে দরকার হলে ওটা ভেঙে কীভাবে একটা সুন্দর হাসপাতাল করা যায়, এটাও আমাদের সময়ের দাবি। যেহেতু এই হাসপাতালটাতে আসলে রোগী আসে না।
তিনি বলেন, এখানে আমরা ডেন্টাল কলেজের কথা বলেছি ইতোমধ্যে। একটা পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল হাসপাতাল এবং কলেজের কথা বলেছি। কাজেই ওই জায়গায় আমরা হয়তো–বা আশা করতে পারি, পুরোনো বিল্ডিংয়ে, কিন্তু নতুন কোনো স্থাপনা সেখানে হবে না।
নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশের সড়ক ধরে কদমতলীর দিকে এগিয়ে গেলে পাহাড়ে ঘেরা রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি)।
সড়কের ডান পাশে পাহাড়ের ওপর সিআরবি ভবন। আর বাম পাশে বর্তমান রেলওয়ে হাসপাতাল। সিআরবি ভবনের সামনের মোড়টি সিআরবি সাত রাস্তার মোড় নামে পরিচিত। এখান থেকে সাতটি ছোট বড় রাস্তা বিভিন্ন দিকে চলে গেছে।
সিআরবি মোড় থেকে টাইগার পাস, কদমতলী ও জিএম বাংলোমুখী সড়কগুলোর দুপাশে আছে শতবর্ষী রেইন ট্রি ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। টাইগারপাস ও জিএম বাংলোমুখী সড়কের মাঝে বড় মাঠে থাকা শিরীষ গাছের তলায় প্রতি বছর হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান।
সড়কের বাম পাশে বর্তমান রেলওয়ে হাসপাতাল, পাশের খালি জমি, রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনি রোড এবং এই রাস্তাটির দুপাশে থাকা জমি নিয়ে মোট ছয় একর জমিতে হাসপাতালটি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) সভায় প্রকল্পটি পিপিপিতে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি পিপিপি প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় সিসিইএ সভায়। সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত অনুমোদন দেন।
এরপর ২০২০ সালের ১৮ মার্চ ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তারপর ২০২১ সালের শুরুতে নির্ধারিত জমির সামনে প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়।
এই প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)। কার্যনির্বাহী সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করবে ‘ইউনাইটেড চট্টগ্রাম হাসপাতাল লিমিটেড’।






