হঠাৎ যদি আপনাকে বলা হয়—একটি জায়গা আছে, যেখানে ঢুকলেই মনে হবে আপনি যেন সময়ের বাইরে চলে গেছেন। যেখানে চারপাশে কেবল ফিসফিসে হাওয়া, শুকনো পাতার শব্দ আর ভাঙাচোরা দালানের অন্ধকার ছায়া… এমন এক অনুভূতি যা গা শিউরে তোলে। এ জায়গাটি কোনো হরর সিনেমার লোকেশন নয়—এটি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পাহাড়ি ঢালে অবস্থিত একসময় জমজমাট বিনোদন কেন্দ্র—হিলটপ পার্ক। কিন্তু এখন সেই পার্কে প্রবেশ করলেই মনে হবে, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন এক ভূতূড়ে জনপদের মাঝে। বিশাল বিশাল গাছের ঘন ছায়া, ভেতরে অন্ধকারাচ্ছন্ন পথ, আর দিগন্ত জুড়ে পরিত্যক্ত ভবন—সব মিলিয়ে এক ভয়াল নীরবতা আঁকড়ে ধরে আছে পুরো এলাকা।
পার্কের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা ভগ্নদশা ভবনগুলোতে এখনো দেখা যায় পুরনো রঙের খসে পড়া দেয়াল, মরিচা ধরা লোহার গেট, ভাঙা কাচের জানালা। বাতাসে ভেসে আসে শুষ্ক পাতার খসখসে শব্দ, যা নীরবতার মধ্যে আরও ভয়ের সঞ্চার করে। রাতে এখানে নাকি শোনা যায় অদ্ভুত সব শব্দ, স্থানীয়রা অনেকে এমন দাবি করেন।
একসময় এই পার্ক ছিল আনন্দ আর প্রাণচাঞ্চল্যের মিলনমেলা। সপ্তাহের ছুটির দিনে মানুষের ভিড়ে সরগরম থাকত প্রতিটি কোণা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই কোলাহল মুছে গেছে, জায়গা করে নিয়েছে অবহেলা আর নীরবতা। পূর্ণতা না পেয়ে হিলটপ পার্ক এখন ভৌতিক পার্ক হিসেবে পর্যটকদের কাছে দর্শনীয় স্থান এবং পিকনিক স্পটে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি বন্ধ থাকায় এলাকাবাসীর দাবি—এটি হয় নতুনভাবে সংস্কার করে খুলে দেওয়া হোক, নয়তো নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সংরক্ষিত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক। নইলে পাহাড়ি সৌন্দর্যের মাঝে অবস্থিত এই জায়গাটি অচিরেই সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে প্রকৃতির আঁকড়ে ধরা অরণ্যে।






