কোন পাত্রে কত দিন পানি বিশুদ্ধ থাকে—কিভাবে জানবেন?

আমরা অনেকেই দিনের পর দিন বোতল, গ্লাস বা জগে রাখা পানি নিশ্চিন্তে পান করে থাকি। বিশেষ করে যদি সেটি দেখতে পরিষ্কার মনে হয়। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এই পানি আদৌ কতটা নিরাপদ? পানি যদি বিশুদ্ধও হয়, তবু একটি পাত্রে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকলে তাতে কী ধরনের পরিবর্তন হয় এবং তাতে কি ব্যাকটেরিয়া বা ক্ষতিকর পদার্থ জন্মায়?

পাত্রের ধরন, সংরক্ষণের পদ্ধতি, তাপমাত্রা এবং আমাদের ব্যবহারের ধরণ—এসব কিছুতে পানি কত দিন বিশুদ্ধ থাকবে তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে এবার জানুন, কোন পাত্রে কত দিন পানি রাখা নিরাপদ এবং কিভাবে তা সংরক্ষণ করবেন।

খাওয়ার টেবিলে কিংবা ঘরে রাখা বোতল, জগ, গ্লাসে সারা রাত পড়ে থাকা পানি সকালে পান করাকে কেউ হয়ত বিপজ্জনক মনে করেন না। গাড়িতে কিংবা অফিসের পানির বোতলে থাকা পুরনো পানি বিশুদ্ধ হলে হয়তো দু-একবার ভাবা হয়। তবে তা গলায় ঢেলে দেন অনেকেই। বিশুদ্ধ হলেও এক বা একাধিক দিন কোনো পাত্রে সংরক্ষণ করা পানি পান করা আসলে কতটুকু নিরাপদ।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে সেই বিষয়েই এখানে জানানো হলো।

পানির স্বাদ : রাতভর গ্লাসে ঢেলে রাখা পানি পরদিন সকালে পান করলে স্বাদটা অন্য রকম মনে হয়। এর কারণ হলো ‘কার্বন ডাই-অক্সাইড’। গ্লাস ভরা পানি ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত উন্মুক্ত রেখে দিলে বাতাসের ‘কার্বন ডাই-অক্সাইড’ সেই পানিতে মিশে যেতে শুরু করে।

এতে পানির অম্ল-ক্ষারের মাত্রা ভারসাম্য হারায় এবং পানি বিস্বাদ হয়ে যায়। তার পরও এই পানি পান করা নিরাপদ।

বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের বিশ্বাস, সাধারণ কলের পানি ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। এই সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সেই পানির ‘ক্লোরিন’ নষ্ট হয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাতে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জন্মাতে শুরু করে। পানি উষ্ণ পরিবেশে থাকলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জন্মানোর প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।

খোলা পাত্রের পানি : খোলা পাত্রে রাতভর বা তারও বেশি সময় রাখা পানি পান করা নিরাপদ নয়। কারণ, এই সময়ে পানিতে কী পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, ধুলাবালি ও ক্ষতিকর ক্ষুদ্রকণিকা ওই পানির উপর পড়েছে তা কল্পনাতীত।

বোতলের পানি : দীর্ঘক্ষণ বোতলে রেখে দেওয়া পানি পান করাও নিরাপদ নয়। কারণ মানুষ যখন বোতলে মুখ ঠেকিয়ে পানি করে তখন তার মুখ ও আশপাশের ত্বক থেকে মৃতকোষ, ধুলাবালি, ঘাম এবং লালারস বোতলের অবশিষ্ট পানিতে মিশে যায়। আর লালারসে যে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া মিশে তা সবাই জানেন। এই সবকিছুর মিশ্রণ যদি লম্বা সময় পড়ে থাকে তখন তাতে থাকা ব্যাক্টেরিয়া বংশবিস্তার করে।

সেই পানি আবার পান করলে শরীরের সেসব ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে। যা থেকে নানান রোগ হতে পারে। আর সংক্রামক রোগাক্রান্ত কারও সঙ্গে পানি ভাগাভাগি করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

গাড়িতে থাকা পানি: রোদের তাপে গাড়িতে থাকা পানি দ্রুত গরম হয়ে যায়, ফলে ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ স্থানে পরিণত হয়। এছাড়াও ‘বিপিএ’ ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানে তৈরি বোতল থেকে রাসায়নিক উপাদান পানিতে মিশতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

পরামর্শ :

.সারা রাত পাত্রে থাকা পানি যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয় তবে পান করতে অসুবিধা নেই।

.যেকোনো খোলা পাত্রে পানি রাখলে ঢেকে রাখতে হবে।

.বোতল থেকে পানি পান করার সময় বোতলের মুখে নিজের মুখ স্পর্শ করানো যাবে না। আর তা করে ফেললে একবারেই সবটুকু পানি পান করে ফেলতে হবে।

.পান করার পানি কখনই গাড়িতে ফেলে রাখা যাবে না।

.গ্লাসে করে পানি পান করতে হবে সবসময়। আর তা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.