ঘুমভাঙা থেকে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত দম ফেলার ফুরসত থাকে না? কারণ দিনভর ব্যস্ততায় নাভিশ্বাস ওঠে। সেই চাপ সামলানোর জন্য শরীর আর মন ভীষণ সুস্থ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু কীভাবে সম্ভব, তা জানাচ্ছেন ভারতের বিখ্যাত যোগ প্রশিক্ষক সৌরভ বোথরা।
গতিময় জীবনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন সবাই। আপনি কেন পিছিয়ে? পরিবার, সংসার, কর্মজীবন— সব নিয়ে নাজেহাল অবস্থা আপনার, তাই না? আর কম বয়সেই শরীরে বাসা বাঁধছে নানা রকম অসুখবিসুখ। চাপ পড়ছে মনেও। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই, কোনো কারণ নেই— এমন জীবনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে একটু সমস্যা তো হবেই।
সামাজিক মাধ্যম প্রভাবী যোগ প্রশিক্ষক সৌরভ বলেছেন, হাজার ব্যস্ততার মধ্যেও ভালো থাকার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে দৈনন্দিন সাধারণ অভ্যাসে। আর জীবনে ভালোভাবে বেঁচে থাকার উপায় হচ্ছে— কিছু অভ্যাস জটিল জীবনকে সহজ করে তুলবে।
কারও পানির তেষ্টা কম পায়, আবার কেউ কেউ ব্যস্ততার মধ্যেই পানি খেতে ভুলে যান। কিন্তু সুস্থ শরীর পেতে হলে অবশ্যই পানি খাওয়া জরুরি। অনেকে কম খান বারবার বাথরুমে যেতে হবে বলে।
সৌরভ বলেন, পানি শুধু খাবার হজম করতে সাহায্য করে না, ত্বকের জেল্লাও ফেরায়। তা ছাড়া বেশি পানি খেলে বারবার বাথরুমে যেতে হবে। ব্যস্ততার মধ্যে চলাফেরা বাড়বে, সে জন্য কম খান; তা কিন্তু ঠিক নয়।
তিনি বলেন, আর সব কিছুর মূলে হচ্ছে সচলতা। বেশিরভাগ অফিসেই এখন বসে কাজ করতে হয়। তাই কাজের চাপ এতটাই বেশি যে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব চেপে রেখে বসে থাকেন আপনি। এর থেকে মুক্তি পেতে হবে। এটা খুবই ক্ষতিকর। এক ঘণ্টা অন্তর স্বল্প বিরতি নিয়ে একটু হেঁটে নিলে আপনার মুক্তি; নচেত নয়। আর সম্ভব হলে স্কোয়াট করলে শরীর সচল থাকবে। চলাফেরায় মাংসপেশির ব্যায়াম হবে। বিরতি নিলে চোখও বিশ্রাম পাবে।
এ যোগ প্রশিক্ষক বলেন, দিনে অন্তত কিছু সময় সচেতনভাবে শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করা জরুরি। কারণ এতে ব্যস্ত জীবনে শুধু শারীরিক পরিশ্রমই হয় না, মনের দিক থেকেও চাপ পড়ে। অবসাদ আর উদ্বেগের সমস্যাও এখন ঘরে ঘরে। তাই মন বশে রাখার উপায় হলো কিছু সময় প্রার্থনা করা।
তাই দিনভর কাজের শেষে রাতে নিজের সময় চাই সবার। মোবাইলে চোখ রাখতে গিয়ে রাত কাভার হচ্ছে অনেকেরই। আর ঘুমাতে ঘুমাতেই ভোর। আবার সকালে ব্যস্ততা। নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। সে কারণে ঘুমের অভাবে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়েও যায়। যার প্রভাব পড়ে মেজাজেও। আর সপ্তাহে তিন দিন অন্তত ৪৫ মিনিট করে শরীরচর্চার পরামর্শ দেন সৌরভ। নিয়মিত ব্যায়াম করা সব সময়ই ভালো, তবে সেই সময় যদি না মেলে, তাহলে কিছুক্ষণ হলেও শরীরচর্চা করুন।
আর সব কাজ একসঙ্গে করতে গেলে আপনার অসুবিধা হতে পারে। তাই এগুলোর মধ্যে একটি করে অভ্যাস তৈরি করা উচিত। একটি কাজ সাত দিন করতে হবে। পরের সাত দিন নতুন একটি অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় জুড়তে হবে।






