চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে যে বাড়ি থেকে হতো মুক্তিযুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ

আগ্রাবাদের পানওয়ালাপাড়া জরাজীর্ণ এই ভবনটি দেখলে প্রথমে আপনার মনে হতেই পারে এটি একটি পরিত্যক্ত ভবন। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বাড়ি থেকেই নানা অপারেশন পরিচালনা করা হতো।মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামই ছিলো সারাদেশের একমাত্র শহর যেখানে ৪০০র বেশী অপারেশন চালিয়েছিলেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা। বিভিন্ন গ্রুপের অধীনে ৫০০’র বেশী মুক্তিযোদ্ধা চট্টগ্রাম শহরে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের এক অবিস্মরণীয় ইতিহাসের সাক্ষী পানওয়ালাপাড়ার জরাজীর্ণ এই ভবনটি।

বাংলাদেশের আর কোন শহরে এতো অধিকসংখ্যক অপারেশনের রেকর্ড নেই। আর চট্টগ্রামের এই সমস্ত অপারেশনের মূল নিয়ন্ত্রণ পরিচালিত হতো আগ্রাবাদের পানওয়ালাপাড়ার এই বাড়ি থেকেই। চট্টগ্রামের গেরিলা যুদ্ধের প্রধান সংগঠক ছিলেন মৌলভী সৈয়দ। তিনি থাকতেন এই বাড়িতেই। এই বাড়িতেই বৈঠক হতো চট্টগ্রাম শহরে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনাকারী সকল গ্রুপ কমান্ডারদের। এ বাড়িটি ছিলো চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ সরদারের পৈত্রিক বাড়ি। তাঁর বাবা আবদুল হাই সরদার একসময় বার্মায় ব্যবসা করতেন। সেই অর্থেই বাড়িটি নির্মান করেছিলেন। কিন্তু আশির দশকে তিনি বাড়িটি বিক্রি করে দেন।‌ বর্তমানে বাড়িতে কয়েকজন ভাড়া থাকেন।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধারা এই বাড়িতে সমবেত হতেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা ছিল এই বাড়িটি, এখানে অনেক সময় গোপন বৈঠক, অস্ত্র লুকানোর ব্যবস্থা, কিংবা পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের পরিকল্পনা হতো।এই এলাকার সবকিছুই বদলে গেছে, মাঠ, বিল, ক্ষেত ভরাট হয়ে উঠেছে বহুতল বিল্ডিং, শপিং কমপ্লেক্স। কেবল বদলায়নি বাড়িটির চিত্র।‌ জীর্ণশীর্ণ বাড়িটি ঠিক আগের মতোই এখনো দাঁড়িয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধের বহু স্মৃতি ধারণ করে আছে এ বাড়ির প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে।

এই বাড়িটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে, যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে এর প্রতিটি ইট-পাথরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। এটি শুধু একটি বাড়ি নয়, বরং আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসের একটি জীবন্ত সাক্ষ্য। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে এই বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.