পৃথিবীতে বিস্ময়ের শেষ নেই। এবার মাটির নিচে রহস্যঘেরা ১৮ তলা শহর। যেখানে রয়েছে রাস্তা, প্রার্থনার স্থান, স্কুল ও গোরস্থানসহ একটি পরিপূর্ণ শহরের সবকিছু। তুরস্কের মধ্যে আনাতোলিয়ার কাপাডোশিয়ায় অবস্থিত ভূগর্ভস্থ শহরটি প্রায় দুই হাজার বছরের প্রাচীন।
সময়টা ১৯৬৩ সাল, তুরস্কের নেভশেহির প্রদেশ। এক ব্যক্তি তার ভূগর্ভস্থ বাড়ির একটি দেয়াল মেরামতের সময় একটি সুড়ঙ্গ খুঁজে পান। ওই পথ দিয়ে গিয়ে তিনি নিজের অজান্তেই আবিষ্কার করে ফেলেন ২০০০ বছরের প্রাচীন এক শহর ডেরিংকুয়ো।
তুরস্কের মধ্য আনাতোলিয়ার কাপাদোশিয়ায় অবস্থিত এই ভূগর্ভস্থ শহর ডেরিংকুয়ো। মাটির নিচে প্রায় ২৮০ ফুট গভীর এই শহরটির ছিলো ১৮টি স্তর। এই স্তরগুলো জুড়ে ছিলো স্কুল, গির্জা, রান্নাঘর, গোয়াল, কবর সহ একটি সম্পূর্ণ শহর।
যেখানে বসবাস করতেন প্রায় বিশ হাজার মানুষ। এতো বেশি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা রেখেই ডেরিংকুয়ো শহর গড়ে উঠেছে। মাটির উপর থেকে মানুষের ভূগর্ভস্থ শহরে পৌঁছানোর জন্য সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিলো। আর গবাদিপশুর যাতায়াতের জন্য ছিলো সুড়ঙ্গ।
যেখানে বসবাস করতেন প্রায় বিশ হাজার মানুষ। এতো বেশি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা রেখেই ডেরিংকুয়ো শহর গড়ে উঠেছে। মাটির উপর থেকে মানুষের ভূগর্ভস্থ শহরে পৌঁছানোর জন্য সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিলো। আর গবাদিপশুর যাতায়াতের জন্য ছিলো সুড়ঙ্গ।
আনাতোলিয়ার প্রাচীন অধিবাসীরা বুঝতে পেরেছিল, এই শিলা খোদাই করে ঘর বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব। ফলে তারা সেই নরম শিলা খুঁড়ে তৈরি করা শুরু করে ঘরবাড়ি ও আশ্রয়স্থল, মাটির নিচে তৈরি করে শহর। তবে ঠিক কোন সময়ে এই শহরটি বানিয়েছিলেন তা সঠিক জানা যায়নি।
মাটির নিচের এই শহরে প্রবেশের প্রতিটি দ্বার বন্ধ করা থাকতো প্রায় পাঁচ ফুট চওড়া ও পাঁচশ’ কেজি ওজনের গোলাকার পাথরের দরজা দিয়ে। গোলাকার পাথরের দরজাগুলো শহরকে রক্ষা করতো নানা রকম বিপদের হাত থেকে।
বর্তমানে এটি বিশ্বের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ১৯৬৯ সাল থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ডেরিংকুয়ো। যদিও শহরের ১৮ টি স্তরের মধ্যে মাত্র আটটিতে প্রবেশ করতে পারেন পর্যটকরা।






