রমজান মাস আসতেই বাংলাদেশের গৃহিণী ও ভোজনরসিকদের মধ্যে একটি আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে ইফতারের পর্ব। নানা রকমের মুখরোচক খাবার যেন এর সঙ্গী হয়ে থাকে, তবে এবার বিষয়টি অন্যরকম। নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে এক নতুন বিতর্ক, ইফতারে মুড়ি মাখায় জিলাপি থাকবে কি না?
বাংলাদেশে ইফতারের সময় মুড়ি মাখা এক জনপ্রিয় পদ। মুড়ি, চিঁড়া, কিশমিশ, চিনির সঙ্গে ছিটিয়ে দেওয়া গুঁড়া দুধ কিংবা দই দিয়ে তৈরি হয় এ খাবার। তবে, এর মধ্যে কিছু নতুন উপকরণ যোগ হলে তার স্বাদও ভিন্ন হয়ে ওঠে। আর এই মুড়ি মাখায় জিলাপির সংযোজন নিয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তুমুল আলোচনা।
একজন নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “ইফতারে মুড়ি মাখায় জিলাপি! এটা কী ধরনের খাবার! এটা তো সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের খাবার!” অন্যদিকে, কিছু মানুষ আবার এই পদকে নতুনভাবে উপভোগ করার জন্য প্রশংসা করেছেন, “যতদিন না দেখি, ততদিন বিশ্বাসই করতে পারব না, কিন্তু মুড়ি মাখায় জিলাপির সঙ্গে যে মিষ্টি তাগি, তাতে মজাও রয়েছে।”
এদিকে, কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মত প্রকাশ করেছেন, “মুড়ি মাখা তো অনেকটাই স্থানীয় সংস্কৃতির একটি অংশ, তবে জিলাপি আর মুড়ি মাখানোর এমন সংমিশ্রণ নতুন কিছু হতে পারে। কেউ যদি একবার ট্রাই করে, তাহলে পরে হয়তো তাদের ভালো লাগবে।”
তবে ফেসবুকের মন্তব্য বিভাগে এই বিষয় নিয়ে নানা রকম মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। এক পক্ষের মতে, “ইফতার হলো এমন একটি মুহূর্ত, যেখানে কিছু ঐতিহ্যগত খাবার থাকবে। মুড়ি মাখায় জিলাপি যোগ করা মানে ঐতিহ্যকে ভেঙে ফেলা।” অপরদিকে, অন্য এক পক্ষের মতামত হলো, “ইফতার তো স্বাদ পরিবর্তনেরও একটা সুযোগ, নতুন কিছু ট্রাই করা যেতে পারে।”
এই বিতর্কটি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, একাধিক খাবারের দোকানেও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে মুড়ি মাখায় জিলাপি। কয়েকটি প্রথাগত রেস্টুরেন্টে এমন মিশ্রণ খাদ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে, যেখানে মুড়ির সঙ্গে জিলাপি দিয়ে তৈরি করা স্ন্যাকস বিক্রি করা হচ্ছে।
সত্যিই, খাবারের বিষয়টি মানুষকে সৃষ্টিশীল এবং নতুন উপভোগের সুযোগ দেয়। তবে, এই বিতর্কের শেষ কোথায়? হয়তো ভবিষ্যতে এমন কিছু ট্রেন্ড উঠে আসবে যা আমাদের চিন্তাভাবনাকেও নতুনভাবে ছকবে। এ বছরই দেখার বিষয়, ইফতারটিতে মুড়ি মাখায় জিলাপি রাখতে পছন্দ করবেন কি না বাঙালি ভোজনরসিকরা!






