অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, ভুল জীবনযাপন, শরীরচর্চা অভাবসহ নানা কারণে অল্প বয়সীদের মধ্যেও বাসা বাঁধছে এই ধরনের রোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে শরীরে বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যদিও হৃদরোগের সাধারণ লক্ষণ হিসেবে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত ক্লান্তিই আমরা জানি।
চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত ত্বকেও প্রকাশ পেতে পারে, যা আমরা বেশিরভাগ সময়ে উপেক্ষা করি
কী সেসব লক্ষণ, চলুন জেনে নেওয়া যাক—
পা ও গোড়ালির ফোলা
হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে না পারলে শরীরের নিচের অংশে তরল জমা হতে শুরু করে। এর ফলে পা ও গোড়ালি ফুলে যায়, জুতা আঁটসাঁট হয়ে যায় এবং চাপ দিলে চিহ্ন থেকে যায়। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের ফোলা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার একটি প্রধান লক্ষণ।
ত্বকে নীল বা ফ্যাকাশে রং
সাধারণত শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিলে ত্বকের রং নীল বা ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
হাত ও পায়ের আঙুল বা ঠোঁট নীলচে বা ফ্যাকাশে রং ধারণ করলে সেটি শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ না হওয়ার ইঙ্গিত বহন করতে পারে। এই অবস্থা ‘সায়ানোসিস’ নামে পরিচিত এবং এটি হৃদযন্ত্র বা রক্তনালির গুরুতর সমস্যার সংকেত হতে পারে।
হলুদ-কমলা দানা
চোখের কোণ, কনুই, হাঁটু বা কবজির আশপাশের ত্বকে হলুদ অথবা কমলা রঙের মোমের মতো দানা দেখা দিলে তা উচ্চ কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। ত্বকে এই ধরনের পরিবর্তন হলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানো উচিত।
নখের নিচে সূক্ষ্ম লাল-বেগুনি রেখা
আঙুলে যন্ত্রণাদায়ক লাল-বেগুনি গুটি
হাত বা পায়ের আঙুলে হঠাৎ ছোট, যন্ত্রণাদায়ক, লাল-বেগুনি গুটি দেখা দিলে সতর্ক হোন। এগুলো ‘অসলার নোড’ নামে পরিচিত। চিকিৎসকদের মতে, এগুলো হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নির্দেশ করতে পারে।
কেন এই লক্ষণগুলোকে অবহেলা করা অনুচিত
আসলে আপাতভাবে ত্বকের এই ধরনের লক্ষণ চর্মরোগ বলে মনে হলেও এগুলো হৃদযন্ত্রের সমস্যার সংকেত দেয়। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরল সমস্যা রয়েছে তাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ওপরে উল্লিখিত লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে দেরি করা যাবে না। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা সম্ভব।






