কিন্তু প্রশ্ন উঠে, প্রতিটি মা-বাবা কি সন্তানকে প্রতিদিন নিয়মানুবর্তিতার পাঠ পড়ানোর দায়িত্ব পালন করেন? সন্তানের জীবনে কিছু ভালো অভ্যাস তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাদের শারীরিক, মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশে সাহায্য করে। মা-বাবার উচিত ছোটবেলা থেকেই প্রতিদিন সকালে উঠে সন্তানদের এমন কিছু কাজ করতে শেখানো, যা তাদের সারা জীবন মনে থাকবে। কী সেসব অভ্যাস, চলুন জেনে নেওয়া যাক—
নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা
প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়িকে বা সারকাডিয়ান চক্রকে ঠিক রাখে।
ঘুম থেকে ওঠার পর নিজের বিছানা নিজে গুছিয়ে রাখা আপাত তুচ্ছ কাজ মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি নিয়মানুবর্তিতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তা ছাড়া এই ধরনের ছোট ছোট অভ্যাস অবচেতনে শিশুদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পরিপাটি থাকার অভ্যাস তৈরি করে। এতে দিনের শুরুটা সুশৃঙ্খল হয়। নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাসও তৈরি হয়।
মুখ ধোয়া ও দাঁত ব্রাশ করা
ঘুম থেকে উঠে মুখ ধোয়া ও দাঁত ব্রাশ করা স্বাস্থ্যকর জীবনের প্রাথমিক পদক্ষেপ। এটি মুখ ও দাঁতের জীবাণু দূর করে। অনেক শিশুই এখন ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল হাতে তুলে নেয়। মোবাইলের পরিবর্তে সন্তানের হাতে খবরের কাগজ তুলে দিতে পারেন। এতে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে। পড়ার বইয়ের বাইরেও জগতকে জানতে পারবে সন্তান। দাঁত না মেজে কোনোভাবেই অন্য কোনো দিকে যাতে নজর না দেয় সন্তান, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
শরীরচর্চা করা
দাঁত মাজা হয়ে গেলে কিছুক্ষণ হালকা ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপ করান সন্তানকে। এই অভ্যাস শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, মনকে সতেজ করে। তবে সন্তানকে একা না ছেড়ে নিজেরাও যোগাভ্যাস, হালকা দৌড়ানো, লাফানো বা অন্য কোনো খেলাধুলা করতে পারেন। এতে মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের যোগসূত্র মজবুত হয়।
স্বাস্থ্যকর নাশতা
সকালের নাশতা দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এটি শিশুদের শরীরে দিনের শুরুতে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায় এবং তাদের মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সন্তানদের জন্য পুষ্টিকর নাশতার ব্যবস্থা করুন এবং তাদের সেই খাবার খাওয়ান। তবে এই সময়ে ফাস্ট ফুড বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।






