বিগত কয়েক বছরে দ্রুত ওজন কমানোর বিভিন্ন ওষুধ বাজারে সহজলভ্য হলেও মানুষ এখন প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ ভারতীয় ওষুধ ছাড়া ওজন কমানোর উপায় সর্ম্পকে জানতে আগ্রহী।
ওজন কমানোসহ শরীরের বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে রসুইঘরের বিভিন্ন উপাদানের ওপর নির্ভরশীলতার পুরনো ট্রেন্ড নতুন রূপ ফিরে পেয়েছে। বলিউড তারকা ও সোশ্যাল মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সরারাও এদিকে ঝুঁকছেন।
ওজন কমানোর জন্য জনপ্রিয়তা অর্জনকারী সর্বশেষ উপাদান হলো সুগন্ধিযুক্ত মসলা দারচিনি, যা সিনামোমাম গাছের বাঁকল থেকে পাওয়া যায়।
কেন দারচিনি এত উপকারী?
ডায়েটিশিয়ান ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ডায়াবেটিক শিক্ষক ড. আরচানা বাট্রা বলেছেন, দারচিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ভারতীয় খাবার ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কারণ এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও হজম প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।
এ ছাড়া এটি উল্লেখযোগ্যভাবে শরীরের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে।
যেমন—ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে, মেটাবলিজম সচল রাখতে সাহায্য করে, শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ হ্রাস করে থাকে।
দারচিনি কি ওজন কমাতে আসলেই কার্যকর ভূমিকা পালন করে?
পুষ্টিবিদ ও দ্য হেলথ পেনাল্টির প্রতিষ্ঠাতা খুশবু জেইন টিব্রেওয়ালা বলেন, দারচিনি অলৌকিক কিছু না-ও হতে পারে। তবে এটি একটি সহায়ক উপাদান, এটি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। এটি শরীরের শর্করা আরো ভালোভাবে পরিচালনা করে, যা সরাসরি চর্বি ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
২০২০ সালের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে , তিন মাস ধরে তিন গ্রাম দারচিনি নিয়ম করে খেলে রক্তে গ্লুকোজ ও কোলেস্টেরেলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
তিনি আরো বলেন, দারচিনি একটি সহায়ক উপাদান, কিন্তু কোনো অলৌকিক জিনিস নয়। এটি তখনই ভালো কাজ করবে, যখন একজন ব্যক্তি সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা পরিহার করে স্বাস্থ্যকর জীবনের প্রতি আগ্রহী হবে।
সূত্র : এনডিটিভি






