কর্মক্ষেত্রে দিনের অনেকটা সময় কাটে। সহকর্মীদের কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের মতো কাছের হয়ে ওঠেন। অনেকেই সহকর্মীর সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত কথা, মতামত, ক্ষোভ- ভাগ করে নেন। কিন্তু মনে রাখবেন, অফিস কাজের জায়গা, তাই সম্পর্ক যতই ভালো হোক, কিছু কথা ভুলেও বলা উচিত নয় সেই পরিবেশে। ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবন সবসময়ই আলাদা রাখা উচিত।
সহকর্মীদের সঙ্গে যেসব বিষয় শেয়ার করবেন না-
ব্যক্তিগত পারিবারিক সমস্যা
আপনার বিচ্ছেদ, আর্থিক টানাপোড়েন, পরিবারের ঝগড়া বা সম্পর্কের সমস্যা—এসব শেয়ার করলে আপনি সহানুভূতির বদলে আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারেন।
বস বা সহকর্মীদের নামে অভিযোগ
অফিসে কারও আচরণ আপনার পছন্দ না হতে পারে। এমন হলে সেটা মনের মধ্যেই রাখুন। আপনার অভিযোগ বা গসিপ একদিন আপনার বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হতে পারে।
বেতন সংক্রান্ত তথ্য
নিজের বেতন নিয়ে কথা বলা বা অন্যের বেতন জানার চেষ্টা করা পেশাদার আচরণ নয়। এতে অফিসে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা ও হিংসা জন্ম নিতে পারে।
চাকরি পরিবর্তনের পরিকল্পনা
আপনি হয়তো চাকরি ছাড়তে চাইছেন বা নতুন কিছু ভাবছেন—এই তথ্য সবার সঙ্গে শেয়ার করা ঠিক নয়। আগে জানালে সুযোগসন্ধানীরা তা ব্যবহার করতে পারে।
কাজ নিয়ে বিরক্তি বা হতাশা
সহকর্মীদের কাছে কাজ নিয়ে হতাশা জানালে আপনাকে নেতীবাচক কর্মী মনে হতে পারে অন্যদের কাছে। এমন হলে ভবিষ্যতে প্রমোশন বা প্রকল্পে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কাজ নিয়ে সমস্যা হলে, যাকে বললে সমাধান মিলবে, তাকেই বলুন।
গোপন কথা শেয়ার করা
কাউকে খুব কাছের ভেবে নিজের গোপন কথা বলা বিপদ ডেকে আনতে পারে। একদিন সেই কথাই আপনার প্রতিপক্ষের অস্ত্র হয়ে দাঁড়াতে পারে।
রাজনৈতিক মতামত অফিসে ব্যক্তিগত মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা করলে বিভাজন তৈরি হয়। রাজনীতি ব্যক্তিগত ব্যাপার, সেটা পেশাদার জগতে না আনাই ভালো।
অতিরিক্ত আয়ের তথ্য
ফ্রিল্যান্সিং বা সাইড-ইনকাম করলেও তা অফিসে না বলাই ভালো। কোম্পানির নীতির বিরুদ্ধে গেলে চাকরি খারাপ হতে পারে।
অফিসের গোপনীয় তথ্য
আপনাকে যদি কোনও গোপন প্রজেক্ট বা তথ্য দেওয়া হয়, তবে তা যেন গোপনই থাকে। ভুলেও অন্যদের কাছে তা বলবেন না।






