হঠাৎ পুড়ে গেলে কী করবেন

হঠাৎ দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে যেতে পারে শরীর। শরীরের অনেকখানি অংশ পুড়ে গেলে কিংবা গভীর ক্ষত সৃষ্টি হলে অতি দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। যে কোনো দুর্ঘটনায় মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করলে, ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। ভুল চিকিৎসার কারণে পোড়ার ক্ষতে ইনফেকশনসহ দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক, আগুনে পুড়ে গেলে তাৎক্ষণিক কী করবেন-

গায়ে লাগা আগুন নেভানো
মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে, ভারী কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে, পানি দিয়ে কিংবা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে জ্বলন্ত আগুনের শিখা নিভিয়ে ফেলতে হবে। কাপড়ে আগুন ধরলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে খুলে ফেলতে হবে।

কাপড় ও গয়না খুলে ফেলুন
পুড়ে যাওয়া স্থান থেকে কাপড় ও গয়না খুলে ফেলতে হবে। তবে কোনো কিছু চামড়ার সঙ্গে লেগে গেলে সেটি টানাটানি করে খোলার চেষ্টা করা যাবে না।

প্রচুর পানি ঢালুন
আক্রান্ত স্থান ঠান্ডা করার জন্য ট্যাপের পানির মতো প্রবাহমান পানির নিচে কমপক্ষে ২০ মিনিট ধরে রাখতে হবে। এটি সম্ভব না হলে বালতি ও মগের সাহায্যে কমপক্ষে ২০ মিনিট ধরে পানি ঢালতে হবে। সম্ভব হলে পুড়ে যাওয়া ব্যক্তিকে চাদর দিয়ে মুড়িয়ে দিন। ভেজানো তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখতে হবে। শরীর পুড়ে যাওয়া ব্যক্তিকে স্যালাইন,ডাবের পানি বা তরল জাতীয় খাবার খাওয়াতে পারেন। শরীরের যতটা অংশই পুড়ে যাক না কেন, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন।

মলম লাগিয়ে নিন
পোড়ার জায়গা অল্প হয়, তাতে পানি দিয়ে পরিষ্কার করে বার্না, বার্নল বা মিল্কক্রিম লাগিয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে হাসপাতালে আনতে হবে। বাসায় যদি কিছু না থাকে নিওবার্নিয়া মলম লাগাতে পারেন।

বেশি পুড়লে যা করবেন
তৃতীয় পর্যায়ের পোড়া হচ্ছে গুরুতর অবস্থা, এক্ষেত্রে রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। অনেক সময় আগুনে শ্বাসনালি পুড়ে গেলে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সাপোর্ট দরকার হয়। পোড়া স্থানে টিস্যু নষ্ট হয়ে গেলে টিস্যু ডিব্রাইডমেন্ট অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত বা সংক্রমিত টিস্যু অপসারণ করতে হবে। ক্ষতস্থান নিয়মিত ড্রেসিং করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ দিতে হবে রোগীকে।

যা করা যাবে না

কোনো অবস্থায় টুথপেস্ট, গাছের বাকল, পাতা অথবা মসলা পোড়া স্থানে লাগানো যাবে না। পোড়া স্থানে বরফ দেওয়া যাবে না। ক্ষতস্থানের ফোসকা ফাটানো যাবে না। এগুলো পোড়া স্থানের সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ায়। পরিমাণে বেশি পুড়ে গেলে স্যালাইন দেওয়া খুবই জরুরি।

ঘরোয়া উপায় যা করবেন-

অ্যালোভেরা লাগিয়ে নিন
কোথাও পুড়ে গেলে অ্যালোভেরার জেল বের করে পোড়া জায়গায় লাগিয়ে নিন। অ্যালোভেরায় ব্যথা কমানোর গুণ আছে। পোড়া জায়গায় অ্যালোভেরা লাগিয়ে দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ত্বকে শীতল অনুভূতি পাওয়া যাবে এবং জ্বালাভাব কমে যাবে। প্রথমে পোড়া জায়গাটা ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর এক টুকরো অ্যালোভেরার পাতা থেকে তাজা রস বের করে পোড়া স্থানে লাগিয়ে নিন। এভাবে দিনে বেশ কয়েকবার লাগাতে পারেন।

আলুর রস দিন
কয়েক টুকরো আলু কেটে পোড়া জায়গায় তার রস ভালো করে লাগিয়ে নিন।

ভিনেগার ব্যবহার করুন

ভিনেগার হলো প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্ট ও অ্যান্টিসেপ্টিক। তাই পুড়ে যাওয়া যায়গায় ভিনেগার ব্যবহার করলে আরাম পাওয়া যায়। ভিনেগারের সঙ্গে সম পরিমাণে পানি মিশিয়ে ক্ষত স্থানটি ধুয়ে নিন। এই মিশ্রণটি ব্যথা কমিয়ে দেবে এবং ত্বকে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। ক্ষত স্থানে ভিনেগার লাগিয়ে উপরে একটি কাপড় বেঁধে রাখতে পারেন। প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর কাপড়টা বদলে দিতে হবে।

সূত্র বিবিসি, সান নিউজ, নিউজ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.