চট্টগ্রাম নগরীর বকশিরহাটে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন স্থাপত্য—সমসের খান ওয়াকফ মসজিদ। চোখে পড়ার মতো রঙিন নকশা, কারুকাজ করা দেয়াল আর উপরে খোদাই করা ফলক—সবমিলে যেন ইতিহাসের একটি জীবন্ত চিত্রকর্ম।
১৮৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি ‘সমসের খান’ নামক এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম ব্যক্তির উদ্যোগে গড়ে ওঠে। স্থাপনাকাল থেকে আজ অবধি এটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থানই নয়, বরং স্থানীয় মুসলমানদের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরীর পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী এলাকাগুলোর এক বিশেষ নাম বকশিরহাট। আর এই বকশিরহাটেই দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদটি শুধু নামেই নয়, ইতিহাসেও সাক্ষ্য দেয় শতবর্ষের। মসজিদের গায়ে লেগে আছে ইতিহাসের ধুলো, অতীতের গৌরব আর প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের নিদর্শন।
আজকের দালানকোঠার ভিড়ে হারিয়ে গেলেও, এই মসজিদের দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের গন্ধ। প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে এই মসজিদ হয়ে উঠেছে একটি সময়ের সাক্ষী—যেখানে নামাজ পড়েছেন উপমহাদেশের নানা সময়ের মানুষ, এমনকি ব্যবসায়ীদের আড্ডাও জমতো এই মসজিদের প্রাঙ্গণে।
চট্টগ্রামের মতো শহরে প্রতিনিয়ত পুরনো স্থাপনার জায়গা দখল করে নিচ্ছে কংক্রিটের নতুন ভবন। তবুও কিছু স্থাপনা আছে, যেগুলো ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখে—তেমনই এক নিদর্শন ‘সমসের খান ওয়াকফ মসজিদ’। যত্ন আর সংরক্ষণ পেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানবে, কীভাবে একদা চট্টগ্রামের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিলো এমন শত বছরের ইতিহাস।






