ফ্রান্সের সেনেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ফ্রান্স সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘুরে দেখলেন দেশটির আইনসভা, সেনেটের বাংলাদেশ বিষয়ক গ্রুপের সঙ্গে অংশ নিলেন মতবিনিময়ে।

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রী বুধবার ফ্রান্সের সেনেট গেলে সেনেট সদস্যরা উঠে দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। পরে তার ভূমিকা ও নেতৃত্বের প্রশংসা করে একটি মানপত্র পাঠ করা হয়।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো এবং লন্ডন সফর শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর আমন্ত্রণে ৯ নভেম্বর প্যারিসে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ কাসতেক্সের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মোহাম্মদ তালহা বলেন, “এই পর্যায়ের সফর আমাদের জানা মতে এর আগে কখনো হয়নি। এই সফরে যে বিরল সম্মান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখানো হয়েছে, প্রথম দুই দিনে, সেটা এর আগে কখনো হয়নি।”

তিনি জানান, ফরাসি সেনেটে বাংলাদেশ বিষয়ক গ্রুপের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই গ্রুপের সদস্যদের অনেকে এর আগে বাংলাদেশ সফর করেছেন। সে বিষয়েও তাদের সঙ্গে সরকার প্রধানের কথা হয়েছে।

“ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোসহ রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা পেয়েছেন।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমোনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ফ্রান্সের ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন মুভমেন্ট অব দ্য এন্টারপ্রাইজ অব ফ্রান্স (এমইডিইএফ) এর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
এছাড়া প্রধানন্ত্রীর সঙ্গে ফ্রান্সের বড় তিন কোম্পানি এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গিউল ফৌরি, দাসসো এভিয়েশন এর সভাপতি এরিক ট্যাপিয়ার, বহুজাতিক কোম্পানি থালেস এর সভাপতি প্যাট্রিস কেইন সাক্ষাৎ করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে প্যারিস সফরের প্রথম দিনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিজে প্রসাদে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজের প্রাসাদে শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

প্রাসাদে পৌঁছালে প্রেসিডেনশিয়াল গার্ডরা প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেয়। এরপর ম্যাক্রোঁ ও শেখ হাসিনা ছবি তোলেন। পরে দুই নেতা এলিজে প্রাসাদে একসঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজ ও বৈঠক করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা।

পরে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ কাসতেক্সের সঙ্গে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.