ADVERTISEMENT

বিতর নামাজে ‘দোয়া কুনুত’ ভুলে গেলে পরিবর্তে কী পড়তে হবে?

বিতরের নামাজে দোয়া কুনুত পড়তে হয়। এখন কেউ যদি এ দোয়া কুনুত না পারে কিংবা ভুলে যায়, এর পরিবর্তে সে কী পড়বে বা এ সময় তার করণীয় কী?

প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি বিতর নামাজও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে সুরা মেলানোর পর একটি বিশেষ দোয়া পড়ার আমল করতে হয়— যাকে আমরা দোয়া কুনুত বলি। আর হানাফি মাজহাব মতে, বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পাঠ করা ওয়াজিব।

মনে রাখার বিষয় হলো— সাধারণত আমরা বহুল প্রচলিত যে প্রসিদ্ধ দোয়াটি পড়ি, সেটি পাঠ করা সুন্নত। অর্থাৎ দোয়া কুনুত হিসেবে হুবহু এই দোয়াটিই পড়া ওয়াজিব নয়। বরং আল্লাহর কাছে দোয়া বা ক্ষমা প্রার্থনা করা হয় এমন যেকোনো শব্দ বা বাক্য পাঠ করলে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।

বিখ্যাত ফকিহ ইবরাহিম নাখয়ি (রহ.)-এর মতে, কুনুতের জন্য বিশেষ কোনো দোয়া নির্ধারিত নেই; যেকোনো দোয়া বা ইস্তিগফার পড়া যায়।

দোয়া কুনুত না জানলে বিকল্প যা পড়া যায়

যদি কারও প্রসিদ্ধ দোয়াটি মুখস্থ না থাকে, তবে সুরা বাকারার ২০১ নম্বর আয়াতটি দোয়া কুনুত হিসেবে পড়া যায়—

رَبَّنَاۤ اٰتِنَا فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً وَّ فِی الۡاٰخِرَۃِ حَسَنَۃً وَّ قِنَا عَذَابَ النَّارِ

‘রাব্বানা আতিনা ফিদ-দুনয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়া কিনা আজাবান নার।’

এ ছাড়া—

> ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলি’ তিনবার, অথবা

> ‘ইয়া রাব’ তিনবার বললেও ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। কিংবা

> ‘রাব্বানা লা তুজিগ কুলুবানা বা দা ইজ হাদাইতানা ওয়া হাব লানা মিল্লাদুনকা রাহমাহ, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহ্হাব’ পড়া যাবে।

> হাদিসে বর্ণিত অন্য যেকোনো দোয়াও পড়া জায়েজ।

কুনুতের পরিবর্তে সুরা ইখলাস পড়া যাবে?

অনেকে দোয়া কুনুতের পরিবর্তে তিনবার সুরা ইখলাস পাঠ করেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ সুরা ইখলাস কোনো দোয়াসংবলিত সুরা নয়, বরং এটি আল্লাহর তাওহিদের বর্ণনা। কুনুতের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে রোনাজারি ও প্রার্থনা করা। তাই সুরা ইখলাস না পড়ে যেকোনো মাসনুন দোয়া পড়া উচিত।

দোয়া কুনুত ভুলে গেলে বা ছেড়ে দিলে করণীয় কী?

যদি কেউ ভুলবশত দোয়া কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে যান, তবে ওয়াজিব ছুটে যাওয়ার কারণে তাকে নামাজের শেষে সিজদায় সাহু দিতে হবে। আর যদি কেউ ইচ্ছা করে দোয়া কুনুত না পড়েন কিংবা ভুলবশত বাদ পড়ার পর সিজদায় সাহু না দেন, তবে ওই নামাজ পুনরায় আদায় করা আবশ্যক।

বহুল প্রচলিত দোয়া কুনুত

اللّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِيْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ- وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ- اللّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ- وَلَكَ نُصَلِّيْ وَنَسْجُدُ- وَإِلَيْكَ نَسْعٰى وَنَحْفِدُ- نَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشٰى عَذَابَكَ- إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাইনুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা- ওয়া নু’মিনুবিকা- ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা- ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর-ওয়া নাশকুরুকা- ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাঊ ওয়া নাতরুকু মাইঁইয়াফঝুরুকা- আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু- ওয়া লাকা নুসাল্লি ওয়া নাসঝুদু- ওয়া ইলাইকা নাসআ- ওয়া নাহফিদু নারঝু রাহমাতাকা- ওয়ানাখশা আজাবাকা- ইন্না আজাবাকা বিল কুফফারি মুলহিক্ব।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর আপনার উপর ইমান আনছি ও আপনার উপরই ভরসা করছি। আপনার শ্রেষ্ঠতম প্রশংসা করছি এবং (চিরকাল) আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো। কখনো আপনার অকৃতজ্ঞ বা অবাধ্য হবো না। যারা আপনার অবাধ্য হয়, আমরা তাদেরকে বর্জন করে চলবো। হে আল্লাহ! আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি ও আপনারই জন্য নামাজ পড়ি, আপনারই জন্য সিজদা করি এবং সর্বদা আপনার আনুগত্যেরই প্রচেষ্টা করি এবং আপনার করুণার প্রত্যাশা করি। আর ভয় করি আপনার আজাবের। নিশ্চয়ই আপনার আজাব কাফেরদেরকে গ্রাস করে নিবে।’ (আবু দাউদ মারাসিল- ১১৮ হা.৮৯, ইবনে আবী শাইবা-১/৩০১ হা. ৬৯৬৫ সহীহ লিগায়রিহী)

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.