অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে— হজ করতে গেলে নারীদের পর্দা করতে হয় না। এমনকি কিছু দ্বীনদার নারীও মনে করেন, ‘হজের সময় পর্দার বিধান শিথিল’ কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা সঠিক নয়।
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে, ইহরামের অবস্থাতেও গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে নারীদের পর্দা করা অপরিহার্য।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে— ইহরামের হালতে নারীদের জন্য মুখমণ্ডলে কাপড় সরাসরি লাগানো (নিকাব বা বোরকা স্টাইল) নিষিদ্ধ। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে গায়রে মাহরামের সামনে মুখ খোলা রাখবেন।
হাদিসের আলোকে নির্দেশনা
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: كَانَ الرُّكْبَانُ يَمُرُّونَ بِنَا وَنَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مُحْرِمَاتٌ، فَإِذَا حَاذَوْا بِنَا سَدَلَتْ إِحْدَانَا جِلْبَابَهَا مِنْ رَأْسِهَا عَلَى وَجْهِهَا، فَإِذَا جَاوَزُونَا كَشَفْنَاهُ.
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.) -এর সঙ্গে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। পথচারীরা যখন আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত, তখন আমরা আমাদের চাদর মাথা থেকে সামনে ঝুলিয়ে মুখ ঢেকে নিতাম। তারা চলে গেলে আবার মুখ খুলে দিতাম।’ (আবু দাউদ ১৮৩৩)
ইহরামের বিধান— সীমিত সময়ের জন্য
মুখে কাপড় সরাসরি লাগানো নিষেধাজ্ঞাটি কেবল ইহরামের সময়ের জন্য প্রযোজ্য। ওমরার ক্ষেত্রে সাধারণত ১–২ দিন। হজের ক্ষেত্রে প্রায় ৩–৪ দিন। তবে কেউ ইফরাদ বা কিরানের নিয়তে ইহরাম বাঁধলে সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
এই অল্প কয়েকটি দিন ছাড়া বাকি সময়—অর্থাৎ ইহরামমুক্ত অবস্থায়—নারীদের জন্য পর্দার বিধান সম্পূর্ণভাবে বহাল থাকে। তাই ইহরামের বাইরে বেপর্দা চলাফেরা করার কোনো সুযোগ বা অজুহাত নেই।
মদিনা সফরে কী হবে?
মদিনা মুনাওয়ারার সফরে তো ইহরামের কোনো সম্পর্কই নেই। সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে মুখ খোলা রাখা বা গায়রে মাহরামদের সামনে পর্দা না করা—এগুলো স্পষ্টতই ভুল ধারণা এবং অজ্ঞতার পরিচয়।
এই পবিত্র সফরের পূর্ণ বরকত লাভ করতে হলে, নারীদের উচিত যথাযথ পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখা। (কিতাবুল হজ, মাওলানা আশেকে ইলাহী বুলন্দশহরী (পৃষ্ঠা ২৮–২৯)
হজ একটি ইবাদত— এটি কোনো বিধান শিথিল করার সুযোগ নয়, বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যকে পূর্ণতা দেওয়ার সময়। ইহরামের বিশেষ বিধান থাকলেও, তা কখনোই পর্দা পরিত্যাগের অনুমতি দেয় না। বরং নারীদের উচিত—পরিস্থিতি ও শরিয়তের সীমারেখা মেনে—সর্বোচ্চ শালীনতা রক্ষা করা। সচেতনতা, জ্ঞান এবং নিয়তের শুদ্ধতার মাধ্যমেই হজের প্রকৃত সৌন্দর্য ও বরকত অর্জন সম্ভব।






