হামে আক্রান্ত শিশুকে যা খাওয়াবেন

হামের প্রকোপ বাড়ছে। চিকেন পক্সেরও প্রকোপ বাড়ছে। সারা গায়ে র্যাশ বা ফোস্কার মতো হওয়া, সঙ্গে তীব্র জ্বর—হাম বলতে এ ধারণাকেই আমরা বুঝি। মৌসুম বদলের সময়ে এখন ঘরে ঘরেই হাম বা পক্সে ভুগছে শিশুরা। এমনও দেখা গেছে, উপযুক্ত টিকা নেওয়ার পরও রোগটি হচ্ছে। ছোটবেলায় হাম বা পক্সে ভুগেছেন অনেকেই; কিন্তু এখন সেই রোগের চেহারা বদলেছে।

সংক্রমণ আরও তীব্র হয়েছে এবং শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদেরও এ রোগটি হচ্ছে। সে কারণেই হাম নিয়ে এত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এখন এসব রোগ হওয়ারও কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। যখন-তখন হানা দিচ্ছে এসব ভাইরাসঘটিত রোগ। তাই ওষুধের চেয়ে পথ্যের ওপরে বেশি জোর দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

হাম বা পক্সের সময়ে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল বেরিয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ ছাড়া ভাইরাসের কারণে শরীরে ‘এ’ ভিটামিনে ঘাটতি হয়। সংক্রমণের ফলে পেশি ক্ষয় হয় বলে প্রোটিনের ঘাটতি হয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। অনেকের ক্ষেত্রেই জিঙ্ক ও ভিটামিন ‘সি’র ঘাটতি বেশি হতে দেখা যায়।

হাম বা পক্সে সাধারণত ঘন ঘন জ্বর আসে। সারা গায়ে ফোস্কার মতো র্যাশ বের হতে থাকে। এই সময়ে শিশুর শরীর যেমন দুর্বল হয়ে পড়ে, ঠিক তেমনি পুষ্টির ঘাটতিও হয়। তাই পথ্য হিসাবে শুধু ফলের রস নয়, নানা রকম মৌসুমি সবজি দিয়ে তৈরি স্যুপ খাওয়ানো উচিত। সোনা মুগ ডাল, গাজর কুচি, পেঁপে কুচি, সামান্য হলুদ ও ঘি নিতে হবে। ডাল ও সবজিগুলো সামান্য লবণ ও হলুদ দিয়ে প্রেশারকুকারে ভালো করে সেদ্ধ করে নিন। এরপর ভালো করে নেড়ে নিতে হবে। নামানোর আগে এক চামচ ঘি মিশিয়ে দিন। এই স্যুপ প্রোটিনসমৃদ্ধ ও সবজির ফাইবারও ঢোকে শরীরে।

ভিটামিন সি-র জন্য কমলালেবুর রস, মুসাম্বির রস, পেয়ারা, বেরিজাতীয় ফল যেমন বেদানা খাওয়ানো যেতে পারে। এই সময়ে ‘এ’ ভিটামিন ঘটতি হয় বেশি। তাই চোখের সংক্রমণও হতে পারে শিশুর। সে কারণে গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, পালংশাক, লালশাক বেশি করে খাওয়াতে হবে। আর খেতে হবে ডিম, ছোট মাছ ও চিকেন।

সাধারণত হামের সময়ে শিশুর মুখে অরুচি হয়। শিশু যদি ভাত খেতে না চায়, তবে পাতলা করে দুধ-সুজি বা সাবুদানার খিচুড়ি রান্না করে খাওয়াতে পারেন। ওটস বা সবজি দিয়ে ডালিয়ার খিচুড়িও খুব মজাদার খাবার। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে খাওয়াতে পারেন ভাত, সবজি ও ডাল। দুপুর ১টার পর কলা, আম চটকে বা সেদ্ধ আপেল চটকে খাওয়াতে পারেন। কলার স্বাদ পছন্দ করে শিশুরা। বিকাল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ডালিয়ার খিচুড়ি, ছানা, ছাতু বা সুজির পায়েস যে কোনো কিছুই খাওয়াতে পারেন।

আর শিশু যদি দুধ খেতে না চায় বা দুধে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে অবশ্যই তাকে খেতে দিন বাদাম। শুকনো ডুমুর, আখরোট, ব্রাজিল নাট, হেজেলনাট, কাঠবাদাম ও কাজু মেটাতে পারে ক্যালসিয়ামের অভাব। বাদাম শিশুর মস্তিষ্কের জন্যও অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিনও রাখতে হবে।  শিশুকে ছোট মাছ বা জিওল মাছ খাওয়ালে খুব ভালো। শিং, মাগুরের মতো জিওল মাছ খাওয়াতে পারেন শিশুকে। মাছ থেকে ভরপুর ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাবে শিশু। তবে একদিনে মাছ, মাংস ও ডিম না দেওয়াই ভালো। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খাওয়াতে হবে। চিকেন স্যুপই এ সময়ে খাওয়ানো ভালো। তবে একবারে দুই থেকে তিন টুকরোর বেশি মাংস খাওয়াবেন না।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.