বাংলাদেশে চিকিৎসা এখন আর শুধু সেবার বিষয় নয়, অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠেছে এক ধরনের আর্থিক যুদ্ধ। অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত লড়তে হচ্ছে বাড়তে থাকা চিকিৎসা ব্যয়ের সঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে চিকিৎসা খরচ কেন সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে?
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মতো সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেডের জন্য আলাদা কোনো বেড চার্জ নেই। পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। তবে বাস্তবতা হলো সব ওষুধ সরকারি তালিকায় থাকে না। অনেক সময় রোগীর পরিবারকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন পরীক্ষার খরচ। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ বেডের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ফলে গুরুতর রোগী থাকা সত্ত্বেও সবাই আইসিইউ সেবা পায় না।
এই সংকটের সুযোগ নিচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো এমন অভিযোগ রোগীর স্বজনদের। চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ খরচ অত্যন্ত বেশি। চট্টগ্রাম সিএসসিআর হাসপাতালে একদিনের আইসিইউ বেড খরচ ৯ হাজার ২০০ টাকা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে একদিনের আইসিইউ খরচ প্রায় ৯ হাজার টাকা। নগরীর আরও অনেক বেসরকারি হাসপাতালে এই খরচ ৯ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। শুধু বেড খরচেই শেষ নয় এর সঙ্গে যোগ হয় নামীদামী ওষুধ, ডাক্তার ভিজিট, নার্সিং চার্জ, অক্সিজেন, বিভিন্ন টেস্টসহ আরও নানা খরচ। ফলে একজন গুরুতর রোগীর জন্য প্রতিদিন পরিবারকে গুনতে হয় প্রায় ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার, এমনকি ৭০ হাজার টাকাও।
অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সেখানে তুলনামূলক কম খরচে উন্নতমানের চিকিৎসা পাওয়া যায় বলে দাবি করেন অনেক রোগী ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা। সে কারণেই উন্নত চিকিৎসা ও খরচের ভারসাম্যের আশায় অনেক বাংলাদেশি রোগী প্রতিবছর দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে চলে যান। এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর এক ধরনের অনাস্থার প্রতিফলন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চিকিৎসা খরচ যখন সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যায়, তখন প্রশ্ন উঠে এই মানুষগুলো যাবে কোথায়? সরকারি হাসপাতালে সীট নেই, আর বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য সবার নেই। অনেক পরিবার ঋণ গ্রহণ কিংবা সহায়তার আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেও চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।






