মিষ্টি খেলেই যে সুগার হবে, তা ঠিক নয়। আপনার পাশে বসে যিনি গপাগপ মিষ্টি খেয়ে যান, তার হয়তো সুগার নেই। অথচ আপনি স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েও ডায়াবেটিসের একেবারে দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। কারণ কী?
কেবল পরিবারে সুগারের ইতিহাস বা খাওয়াদাওয়াকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এর জন্য অনেকটাই দায়ী আপনার রক্ত। সহজ কথা— রক্তের গ্রুপ। রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ডায়াবেটিসের একটি যোগসূত্র থাকতে পারে। সাম্প্রতিক ফরাসি একটি গবেষণার তথ্যমতে, রক্তের গ্রুপ যদি ‘ও’ হয়, তাহলে আপনি নিরাপদ। আর যদি ‘বি’ হয়, তাহলেই যত মুশকিল। কারণ এই গ্রুপের রক্ত হলে, টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি।
প্রতিটি গ্রুপের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অসুখবিসুখের সঙ্গে সম্পর্কও আছে। কিছু নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের লোকজনের সুগার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এমনই দাবি করা হয়েছে সেই গবেষণায়।
হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকরা জানিয়েছেন, ‘ও’ গ্রুপ ছাড়া বাকি তিনটি রক্তের গ্রুপ যেমন— ‘এ’, ‘বি’ ও ‘এবি’ গ্রুপে ডায়াববেটিসের ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে রক্তের গ্রুপ ‘বি পজিটিভ’ হলে সুগার ধরতে পারে যে কোনো বয়সেই। এর কারণও রয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এই গ্রুপের রক্তে এক ধরনের প্রোটিন বেশি থাকে, যা বিপাকহার কমিয়ে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তা ছাড়া এই গ্রুপের রক্ত হলে, গ্লুকোজের জারণ সম্পন্ন হতে অনেক সময় লাগে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। সবটাই হয় বিপাকীয় ত্রুটির কারণে।
গবেষণাটির পুরোটাই সমীক্ষালব্ধ ফল। বহু মানুষের ওপরে বছরের পর বছর সমীক্ষা চালিয়ে এমন দাবি করা হয়েছে। তবে এর ব্যতিক্রমও হতে পারে। ‘ও’ গ্রুপের লোকজনের ডায়াবেটিস হবেই না, তা বলা যায় না। আবার ‘বি’ গ্রুপ হলেই যে সুগার হবে, তা না-ও হতে পারে।
ডায়াবেটিস জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত অসুখ। এর সঙ্গে খাওয়াদাওয়া এবং জীবনযাপনের ধরনও জড়িত। তাই রক্তের গ্রুপ যা-ই হোক না কেন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় খাবার মেপেই খেতে হবে। নেশার মাত্রা কমাতে হবে এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। এমন নিয়ম মেনে চললে ডায়াবেটিসের মতো নাছোড়বান্দা ব্যাধি ধারকাছে ঘেঁষবে না।






