জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশগুলো আমরা গ্রহণ করব: সালাহউদ্দিন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করতে বৈঠকে বসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে প্রবেশের আগে সংসদ ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিগুলো এখনো গঠিত না হওয়ায় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘কোন অধ্যাদেশ কীভাবে গ্রহণ করা যায়, কোনটা সংশোধন করে নেওয়া যায়, আর কোনটার ক্ষেত্রে আরও পরিবর্তন লাগবে, সেগুলো নিয়েই আলোচনা হবে।’

তিনি আরও জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু রয়েছে, যেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে। আবার কিছু অধ্যাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা আমরা ধারণ করব। যেমন কিছু অধ্যাদেশ আছে, যেখানে জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে বা অংশগ্রহণ করেছে তাদের বিষয়ে ইনডেমনিটির বিষয় আছে, এগুলো আমরা গ্রহণ করব।’

এছাড়া আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়ও সহজে গ্রহণযোগ্য হবে বলে জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সময় সংক্ষিপ্ত হওয়ায় বিশেষ কমিটিকে দ্রুত সিদ্ধান্তে যেতে হবে। অধিবেশন ১২ তারিখ বসেছে, আবার ২৯ তারিখ বসবে। এর মধ্যে যে সময় আছে, সেই সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে ফয়সালা করতে হবে।

উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়। এতে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পরে ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। এবং ২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে উত্থাপন করতে বলা হয়।

অধ্যাদেশ নিয়ে এই বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবদিন। কমিটির সদস্যরা হলেন—ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার-১ আসনের সালাহউদ্দিন আহমদ, বরগুনা-২ আসনের মো. নুরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ-১ আসনের মো. আসাদুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক, নোয়াখালী-১ আসনের এ. এম. মাহবুব উদ্দিন, জয়পুরহাট-২ আসনের মো. আব্দুল বারী, পঞ্চগড়-১ আসনের মুহাম্মদ নওশাদ জমির, নাটোর-১ আসনের ফারজানা শারমীন, রাজশাহী-১ আসনের মো. মুজিবুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের জি. এম. নজরুল ইসলাম।

সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাস না হলে সেগুলোর আইনি বৈধতা থাকে না। সে কারণেই এগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা এসব অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন, গণভোট, সাইবার সুরক্ষা, পুলিশ কমিশন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশও।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.