ঠান্ডা–গরম খেলেই দাঁতে শিরশিরানি? ৫ অভ্যাসেই বাজছে ‘বারোটা’

ঠান্ডা বা গরম কিছু খেলেই দাঁতে শিরশির করে উঠছে? দাঁত ঝকঝকে দেখালেও ভেতরে ভেতরে সমস্যা বাড়ছে? দাঁতের সেন্সিটিভিটি, এনামেল ক্ষয় কিংবা দাঁত ও মাড়ির দুর্বলতা—এই সমস্যাগুলো এখন আর শুধু বয়সের সঙ্গে আসা অসুখ নয়। বরং তরুণদের মধ্যেও এগুলো আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এর পেছনে যেমন মুখের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা দায়ী, তেমনি প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাস নীরবে দাঁতের ক্ষতি করে চলেছে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক— প্রতিদিনের কোন ৫টি অভ্যাস আপনার দাঁতের ক্ষতির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

১. খুব জোরে বা ভুল পদ্ধতিতে ব্রাশ করা

অনেকের ধারণা, যত জোরে ব্রাশ করা যাবে দাঁত তত বেশি পরিষ্কার হবে। বাস্তবে ঠিক উল্টোটা ঘটে। অতিরিক্ত চাপ দিয়ে বা ভুল কায়দায় ব্রাশ করলে দাঁতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাবলয়— এনামেল স্তর ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়।

এই এনামেলই দাঁতকে আঘাত, ব্যাকটেরিয়া ও সংবেদনশীলতা থেকে রক্ষা করে। একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে এটি আর নতুন করে গড়ে ওঠে না। নিয়মিত জোরে ব্রাশ করা কিংবা শক্ত খাবার, যেমন মাংসের হাড় চিবোনোর অভ্যাস থাকলে এই ক্ষয় আরও দ্রুত হয়। ফলাফল— ঠান্ডা বা গরম কিছু খেলেই শিরশিরানি।

করণীয়: সমাধান হিসেবে দাঁত মাজার সময় চাপ কমান এবং নরম ব্রিসেলের টুথব্রাশ ব্যবহার করুন।

২. অতিরিক্ত অ্যাসিড ও চিনি যুক্ত খাবার–পানীয়

সোডা, এনার্জি ড্রিংক, লেবুর রস, ফলের রস, চা–কফি কিংবা মিষ্টিজাতীয় খাবার নিয়মিত ও অতিরিক্ত খেলে দাঁতের ক্ষতি অনিবার্য। এসব খাবার ও পানীয় দাঁতের এনামেলকে অ্যাসিডের আক্রমণে দুর্বল করে ফেলে। মুখের ভেতরে অ্যাসিডিক পরিবেশ তৈরি হলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়ে এবং এনামেল ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে। তাই এসব পানীয় খাওয়ার পর মুখ ভালো করে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।

করণীয়: সম্ভব হলে স্ট্র ব্যবহার করুন— এতে দাঁতের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ কম হবে।

৩. পর্যাপ্ত জল না পান করা

অনেকে জানেন না, নিয়মিত জল পান না করলে দাঁতেরও ক্ষতি হয়। পর্যাপ্ত জল না খেলে লালারসের উৎপাদন কমে যায়। অথচ এই লালারসই দাঁত ও মুখের প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ।

লালা অ্যাসিডের প্রভাব কমায়, দাঁত পরিষ্কার রাখে এবং এনামেলকে মজবুত করতে সাহায্য করে। শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হলে লালারস কমে যায়, ফলে মুখে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে এনামেল আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

করণীয়: তাই দাঁতের সুস্থতার জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করা অত্যন্ত জরুরি।

৪. ঘরোয়া হোয়াইটনিং ট্রিকসের ফাঁদ

ঝকঝকে সাদা দাঁত কার না পছন্দ? এই আকর্ষণেই অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘরে বসে লেবু, বেকিং সোডা বা অ্যাক্টিভেটেড চারকোল দিয়ে দাঁত সাদা করার চেষ্টা করেন— যা সামাজিক মাধ্যমে খুবই জনপ্রিয়। এতে সাময়িকভাবে দাঁত উজ্জ্বল মনে হলেও, এসব উপাদান আসলে অত্যন্ত অ্যাব্রেসিভ বা অ্যাসিডিক। ফলে এনামেল দ্রুত ক্ষয়ে যায় এবং দাঁত আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

করণীয়: দাঁত সাদা করার ক্ষেত্রে নিজস্ব কৌশলের বদলে চিকিৎসকের পরামর্শে হালকা ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট বা পেশাদার হোয়াইটনিং চিকিৎসাই নিরাপদ।

৫. সাধারণ টুথপেস্টে ভরসা করা

বাজারের অনেক টুথপেস্ট কেবল দাঁতের সাদা ভাব বা মুখের দুর্গন্ধ দূর করার কথাই বলে। কিন্তু দাঁতের এনামেল সুরক্ষার বিষয়ে তারা খুব একটা গুরুত্ব দেয় না।

দাঁতের সংবেদনশীলতা বা এনামেল ক্ষয় রোধ করতে হলে সাধারণ টুথপেস্ট যথেষ্ট নয়।

করণীয়: এ ক্ষেত্রে এনামেল-প্রোটেকটিং বা সেন্সিটিভিটি কন্ট্রোল টুথপেস্ট ব্যবহার করাই বেশি উপকারী।

দাঁতের সমস্যা একদিনে তৈরি হয় না— ছোট ছোট অভ্যাসই ধীরে ধীরে বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আজই যদি এই পাঁচটি অভ্যাসে সচেতন হন, তাহলে ঠান্ডা–গরমে শিরশিরানি থেকে শুরু করে বড় ধরনের দাঁতের সমস্যাও সহজেই এড়ানো সম্ভব। দাঁতের যত্ন মানেই শুধু সৌন্দর্য নয়— এটি সুস্থ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.