বিতর্ক মানে শুধু যুক্তির লড়াই নয়, বরং চিন্তার পরিধি প্রসারিত করা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হওয়া। তরুণদের এই যুক্তির মঞ্চই যেন একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি নেতৃত্ব ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনারও অনুশীলন। ঠিক সেই অভিজ্ঞতাই মিলল চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে আয়োজিত জিএমএইচএসডিএস ন্যাশনাল ডিবেট ফেস্টিভ্যাল ২০২৫-এ।
উৎসবমুখর পরিবেশে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় তাদের যুক্তি, তথ্য ও গবেষণার শক্তি দিয়ে। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের শেষ দিনে আন্তঃস্কুল ও আন্তঃকলেজ পর্যায়ের ফাইনাল প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ড. শাহদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি মুসলিম হাই স্কুল প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি শাহ আলম বাবুল, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস। অনুষ্ঠান এর সভাপতিত্ব করেন সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদুজ জামান, আরো উপস্থিত ছিলেন চিটাগং লাইভের প্রতিষ্ঠাতা সাবের শাহ।
ড. শাহদাত হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যুক্তি নির্ভর কথা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের ভালোর জন্য যুক্তি-তর্ক চর্চা আরো বাড়াতে হবে, তবে মনে রাখতে হবে সৃজনশীল এ কাজগুলো যেন অতীতের মত রাজনীতির ভেতর ঢুকে না যায়।
ফাইনাল প্রতিযোগিতায়, কলেজ পর্যায়ে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ চ্যাম্পিয়ন এবং হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজ রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ফাইনাল বিতর্কের বিষয় ছিল— “এই সংসদ (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে) পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে ৯০ দিনের সময়সীমা বিশিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিবে।”
অন্যদিকে আন্তঃস্কুল বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হয় ডাঃ খাস্তগির বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং রানার-আপ হয় অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। স্কুল পর্যায়ের ফাইনালের বিষয় ছিল— “এই সংসদ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অভিযোজনমূলক কৌশলের পরিবর্তে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অধিক বিনিয়োগ করবে।






