সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও সারা বিশ্বের নেটিজেনদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভিডিওগুলোতে দেখা যাচ্ছে—ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের একজন আলেম, কোরআন তেলাওয়াত করতে করতে অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষের শরীরে হাত রাখছেন, আর মুহূর্তের মধ্যেই সেই মানুষ সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ভিডিওতে দেখা যায়—বাক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মুখে হাত রেখে কোরআন তেলাওয়াত করছেন, আর সে সাথে সাথেই কথা বলা শুরু করছে। কানে শুনতে না পাওয়া মানুষের কানের কাছে হাত রেখে কুরআন তেলাওয়াত করছেন, আর সে সঙ্গে সঙ্গেই শ্রবণক্ষমতা ফিরে পাচ্ছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ কোনো রোগীর মাথায় হাত রেখে কুরআন তেলাওয়াত করার পর তাকে সুস্থ হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে।
এই দৃশ্যগুলো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই একে পবিত্র কোরআনের অলৌকিক শক্তি হিসেবে অভিহিত করছেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বলছেন—কোরআন শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক শান্তিই দেয় না, বরং আল্লাহর ইচ্ছায় তা শারীরিক রোগ নিরাময়ের মাধ্যমও হতে পারে।
নেটিজেনদের অনেকেই কোরআনের সূরা বনী ইসরাইলের ৮২ নং আয়াত উদ্ধৃত করছেন। সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন—
“আমি কোরআনে এমন কিছু নাযিল করেছি যা মুমিনদের জন্য শেফা (আরোগ্য) ও রহমত, আর জালিমদের জন্য তা ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।”
অন্যদিকে অনেকেই মন্তব্য করেছেন—“যে কাজে বিজ্ঞানীরা শত কোটি বছর গবেষণা করেও সক্ষম হবেন না, মহান আল্লাহ তা কয়েক সেকেন্ডেই করে দিতে পারেন।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে, তার নাম মালা আলী কুরদিস্থানি। তিনি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলের একজন প্রখ্যাত আলেম। বর্তমানে তিনি সেখানে “নবীণ ক্লিনিক” পরিচালনা করছেন।
শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, মালা আলী কুরদিস্থানি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুপরিচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৫.৭ মিলিয়ন। ফলে তার কার্যক্রম সম্পর্কিত যেকোনো ভিডিও মুহূর্তেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনাগুলোকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন মতামতও পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষ এটি আল্লাহর নিদর্শন ও কোরআনের অলৌকিক শক্তি বলে মনে করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি বিশেষ ধরনের মানসিক প্রভাব বা সাইকোলজিক্যাল এফেক্ট হতে পারে। এমনকি কেউ কেউ এটিকে নিছকই কাকতালীয় ঘটনা বলেও মন্তব্য করেছেন।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—এই ভিডিওগুলো মানুষের মনে কোরআনের শেফা বা রোগমুক্তির ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
সবশেষে বলা যায়, মালা আলী কুরদিস্থানির এই কার্যক্রম যেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি ধর্মীয় অনুপ্রেরণার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। কোরআনের রহমত, আরোগ্য ও মানবকল্যাণের বার্তা আবারও মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।






