চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট—যে বাজারের ইতিহাস তিন শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। কথিত আছে, মুঘল আমলের শেষ দিকে স্থানীয় জমিদার রুস্তম আলী চৌধুরীর উদ্যোগে এই বাজারের সূচনা হয়। তখন গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ ছিল সাপ্তাহিক হাট, আর রুস্তমহাট তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
আজও এই বাজারে ঢুকলে মনে হয়, যেন ইতিহাসের পাতায় ফিরে গিয়েছেন। একদিকে পুরনো কাঠের দোকান, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মুখরোচক হাঁকডাক—সব মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ। বাজারের আশেপাশের মানুষজন বলছেন, এখানে শুধু পণ্য কেনাবেচা হয় না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মের মানুষের জীবনধারা, সংস্কৃতি ও স্মৃতির আদান-প্রদান ঘটে।
আগে প্রতি সপ্তাহে হাটের দিনে ভিড় জমতো কয়েক হাজার মানুষের। তবে কালের পরিক্রমায় সেই জৌলুশ হারিয়েছে অনেক আগেই। তবে এখোনো গ্রামের কৃষকরা নিয়ে আসেন তাজা শাকসবজি, ধান, চাল, ডাল, ফলমূল। পাশাপাশি রয়েছে দেশি মসলা, মাছ, হাঁস-মুরগি, এমনকি হাতের তৈরি বাঁশ-বেতের সামগ্রী। এক সময় এখানে গরু-ছাগলের পাইকারি বিক্রি ছিল প্রধান আকর্ষণ, যা এখনো আংশিকভাবে চালু আছে।
বটতলী রুস্তমহাট শুধু বাণিজ্যিক জায়গা নয়—এটি আনোয়ারার মানুষের ঐতিহ্য, গর্ব এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতীক। শত বছরের ধারাবাহিকতায় বাজারের গায়ে লেগে আছে অগণিত গল্প, ব্যবসায়ীদের সাফল্য ও সংগ্রামের ইতিহাস। বর্তমানে বাজারটি আধুনিকতার ছোঁয়া পেলেও, পুরোনো দিনের কাঁচা রাস্তা, বাঁশের ছাউনি আর গাঢ় মানবিক সম্পর্ক এখনো মুছে যায়নি। তাই বটতলী রুস্তমহাট শুধু কেনাবেচার স্থান নয়—এটি এক জীবন্ত ঐতিহাসিক দলিল, যা সময়ের স্রোতেও তার নিজস্ব পরিচয় ধরে রেখেছে।






