চট্টগ্রামে বাড়ি নির্মাণে চাঁদা না দেওয়ায় এক চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর বাকলিয়া থানাধীন রাহাত্তারপুল এলাকায় মঙ্গলবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। হামলা থেকে বাঁচতে ওই চিকিৎসক একটি বাড়ির চারতলায় উঠে ফেসবুক লাইভে এসে তাকে বাঁচানোর আকুতি জানান। এই চিকিৎসকের নাম মোহাম্মদ ইকবাল। হারুন নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছেন ওই চিকিৎসক।
ইকবালের পারিবারিক সূত্র জানায়, ইকবাল রাহাত্তার পুল নুর বেগম জামে মসজিদের কাছে একটি বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। ওই বাড়ি নির্মাণে স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতা ইটবালি সরবরাহের জন্য তার কাছে ‘আবদার’ করেন। এতে রাজি না হওয়ায় দাবি করেন চাঁদা। তাও না দেওয়ায় মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় বিএনপি নেতা হারুনের নেতৃত্বে কয়েকজন ইকবালকে মারধর করেন। তিনি হামলা থেকে বাঁচতে একটি ভবনের চারতলার একটি কক্ষে লুকিয়ে সেখান থেকে ফেসবুক লাইভে বলেন, বিএনপির হারুনসহ সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা করেছে। তাকে মেরে ফেলার জন্য খুঁজছে। তিনি ৯৯৯- এ কল দিলেও পুলিশ আসছে না। তিনি তাকে বাঁচানোর অনুরোধ জানান। এ সময় ডা. ইকবালের চোখ দিয়ে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। তাকে খুব আতঙ্কিত ও ভীত দেখা যায়। রাত ৯টার দিকে তিনি চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যান।
বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে যুগান্তরকে বলেন, ওই চিকিৎসক যেখানে বাড়ি নির্মাণ করছেন সেখানে প্রতিবেশীর সঙ্গে জায়গা নিয়ে বিরোধ ছিল। তারা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (চউক) অভিযোগ দিলে চউক ওই বাড়ির নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলে। এরপরও নির্মাণ কাজ চালানোর কারণে অভিযোগকারীরা এসে বাধা দেয়। এ সময় হাতাহাতিতে তিনি আহত হন। ফেসবুক লাইভে এসে বাঁচানোর আকুতি জানানোর খবর পাওয়ার পর পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পুলিশ অনেকটা জোর করেই ধাক্কা দিয়ে তিনি যে রুমে লুকিয়ে ছিলেন সেই রুমের দরজা খুলেছে। হারুন নামে যে লোকটিকে বিএনপি নেতা বলা হয়েছে তিনি একজন মহল্লা সরদার। রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ঘটনায় থানায় মামলা হয়নি। ভিকটিম এসে অভিযোগ দিলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।






