১৯৫২ সালের মুঘল স্থাপত্যের আবু শাহীদ দোভাষ জামে মসজিদ

কোতোয়ালি থেকে ফিরিঙ্গিবাজার যাওয়ার পথে, ব্যস্ত সড়কের পাশে হঠাৎ থমকে দাঁড়াতে হয়। ডানপাশে চোখে পড়ে এক অসাধারণ দৃশ্য। এ যেন রঙের মেলা! লাল, সবুজ, নীল, হলুদ, সাদা, গোলাপী – হরেক রঙের ঝলকানি। প্রথম দেখাতেই মন কেড়ে নেয় এই স্থাপনা।

মুঘল স্থাপত্যশৈলীর আদলে গড়া এই মসজিদটির প্রতিটি অংশ যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা। লতা-পাতার নকশা আর নানান কারুকাজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অত্যন্ত সুনিপুণ হাতে। আলো-আঁধারির খেলায় দেয়ালগুলোর ভেন্টিলেশন সিস্টেমও এক নান্দনিক মাত্রা যোগ করেছে। দূর থেকেই এর দৃষ্টিনন্দন উপস্থিতি জানান দেয় এটি কোনো সাধারণ মসজিদ নয়।

এই মসজিদটি হলো আবু শাহীদ দোভাষ জামে মসজিদ। এর নেপথ্যে রয়েছে একটি বিশেষ গল্প। চন্দনপুরার তাজ হামিদিয়া মসজিদের কথা আমরা অনেকেই জানি। এই মসজিদটি ঠিক তারই আদলে তৈরি। যার স্বপ্ন আর প্রচেষ্টায় এটি নির্মিত হয়েছে, তিনি হলেন আবু শাহীদ দোভাষ। মজার ব্যাপার হলো, তিনি নিজে চন্দনপুরা মসজিদের সংস্কার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি তার শ্বশুরবাড়ির পাশে কোতোয়ালি মোড়ে গড়ে তোলেন এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। সালটা ছিল ১৯৫২। সেই থেকে কালের সাক্ষী হয়ে আজও এটি স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে।

আকারের দিক থেকে হয়তো চন্দনপুরার তাজ হামিদিয়া মসজিদের চেয়ে এটি কিছুটা ছোট, কিন্তু স্থাপত্যশৈলী আর নকশার দিক থেকে এটি প্রায় অভিন্ন। মুঘল স্থাপত্যের সেই গম্বুজ আর সুউচ্চ মিনারগুলো এখানেও বিদ্যমান। গম্বুজ ও সিঁড়িতে ফুটিয়ে তোলা মুঘল নিদর্শনের প্রতিচ্ছবি যে কাউকে মুগ্ধ করবে। প্রতিটি দেয়ালের কারুকাজ যেন এক জীবন্ত শিল্পকর্ম।

স্থাপত্যের সৌন্দর্য, রঙের জৌলুস আর ইতিহাসের ছোঁয়া – সব মিলিয়ে আবু শাহীদ দোভাষ জামে মসজিদ কোতোয়ালি-ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার এক উজ্জ্বল রত্ন। শুধু ইবাদতের জন্যই নয়, এর অপূর্ব কারুকার্য দেখতে এবং মুঘল স্থাপত্যের নিদর্শন অনুভব করতে আজও দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। ১৯৫২ সালের এই স্থাপনাটি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, জানান দিচ্ছে তার গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.