ADVERTISEMENT

এমন এক কারাগার রয়েছে যেখান থেকে আর বের হওয়া যায়না

মৃত্যু ছাড়া মুক্তি নেই! ভাবছেন রূপকথা? না, বাস্তবেই এমন এক কারাগার আছে, যেখানে একবার ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না।

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর কারাগার, সিকট। শুনশান এক দ্বীপে ৪১০ একর জমির ওপর তৈরি এই কারাগার যেন এক মৃত্যুপুরী। তিন স্তরের নিরাপত্তা দেওয়াল, হাজারো সশস্ত্র প্রহরী, আর অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা – এই কারাগারকে করে তুলেছে দুর্ভেদ্য।

এল সালভাদরের অন্ধকার অতীত থেকে উঠে আসা এই কারাগার। আশির দশকে গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত এল সালভাদর পরিণত হয়েছিল অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গ্যাং কালচার আর খুনোখুনিতে ভরে গিয়েছিল দেশ।

কিন্তু, এল সালভাদরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে ২০২৩ সালে চালু করেন সিকট। এই কারাগারে একবার ঢুকলে আর বের হওয়ার কোনো পথ নেই। ৪০ হাজার বন্দির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এই কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে দেখা করার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি, আদালতের কার্যক্রমও চলে জুমের মাধ্যমে।

এমএস-১৩ ও বারিও ১৮ এর মতো ভয়ঙ্কর গ্যাং সদস্যদের ঠিকানা এখন এই সিকট। কারাগারে মোবাইল ফোনের সিগন্যাল জ্যাম করে রাখা হয়েছে, যেন বাইরের জগতের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকে।

২০২২ সালে বুকেলে গ্যাং সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেন পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে। রাতারাতি বদলে যায় এল সালভাদরের চিত্র। ভয়ংকর অপরাধীরা বন্দি হয় সিকটে, আর দেশ পরিণত হয় নিরাপদ এক স্থানে।

এখানে বন্দিদের ওপর চলে কঠোর নির্যাতন। ২৪ ঘণ্টা আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়, টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা নেই, হাতে করেই খাবার খেতে হয়। কোনো কোনো অপরাধীকে দেওয়া হয়েছে শত বছরেরও বেশি সাজা।

একসময় যারা এল সালভাদরের ৯০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ করত, আজ তারাই বন্দি এই ভয়ংকর কারাগারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার দেশের অপরাধীদের এই কারাগারে পাঠাতে চান।

সিকট কারাগার যেন এক জীবন্ত নরক। এখানে বন্দিদের প্রতিটি মুহূর্ত কাটে মৃত্যুভয়ে। এই কারাগার যেন এক সতর্কবার্তা, অপরাধীদের জন্য এক ভয়ঙ্কর পরিণতি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.