থান ও গজ কাপড়ের জন্য শত বছরের পুরাতন মার্কেট চট্টগ্রামের টেরিবাজার। চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের ব্যবসাকেন্দ্র এই টেরিবাজার। ঢাকার ইসলামপুরের পর এটিই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাইকারি বাজার। মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে জমজমাট বাণিজ্য হয় এই বাজারে। বিশেষ করে থানকাপড়ের জন্য এ বাজারের বিকল্প নেই। রোজার অন্তত এক মাস আগে জেলা ও আশপাশের উপজেলার পাইকারি ক্রেতাদের ভিড় জমে উঠে এখানে।
টেরিবাজার শুধু একটি বাজার নয়, এটি চট্টগ্রামবাসীর আবেগ, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির জীবন্ত সাক্ষী। রোজার শুরু থেকেই এই বাজার যেন উৎসবের রূপ নিয়েছে। প্রতিটি দোকান সাজানো হয়েছে বাহারি পোশাকে। দেশি-বিদেশি নিত্য নতুন ডিজাইনের শাড়ি, থ্রি-পিচ, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, সালোয়ার কামিজ, গহনা, জুতা, কসমেটিকসসহ সব ধরনের পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রীতে ঠাসা এই বাজার।
বিশেষ করে নারীদের জন্য ফ্যাশনেবল শাড়ি, থ্রি-পিচ এবং বাহারি ডিজাইনের পোশাকের চাহিদা এখানে বেশি। চীন, ভারত ও পাকিস্তান থেকে আমদানিকৃত সিকোয়েন্স পাঞ্জাবি, লিনেন, জামদানি, সুতি, শিফন ও প্রিন্ট কাপড়ের পাশাপাশি দেশি মানের পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দ অনুযায়ী কাপড় কিনে তা কাস্টমাইজ করে পোশাক বানানোর সুযোগ পাচ্ছেন, যা রেডিমেড পোশাকের তুলনায় সাশ্রয়ী।
টেরিবাজারের সরু অলিগলিগুলো এখন ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত। একদিকে ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোশাক খুঁজে বেড়াচ্ছেন, অন্যদিকে বিক্রয়কর্মীরা দম ফেলার ফুরসত পাচ্ছেন না। প্রতিটি দোকানে বিক্রয়কর্মীরা ব্যস্ত ক্রেতাদের পছন্দের পোশাক দেখানো, দরদাম করা এবং প্যাকিং করার কাজে। ঐতিহ্যবাহী টেরিবাজারে রোজার শুরু থেকেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ঈদুল ফিতরের আগমনী বার্তা নিয়ে এই বাজার এখন জমজমাট।






