দেশে অভিনব কৌশলে বেড়ে চলেছে নানা প্রতারণা ও ছিনতাই। প্রতারণার নিত্যনতুন পন্থা অবলম্বন করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে একটি ভয়ংকর অপরাধী চক্র।
বর্তমানে নতুন একটি পন্থা দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এ পন্থায় একজন প্রতারক কিংবা ছিনতাইকারী ভুক্তভোগীকে চাইলেই কাবু করে নিজের ইশারায় নাচাতে পারেন।
প্রতারক যে নির্দেশনাই দেবেন, তা-ই অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন সেই নিরীহ ভুক্তভোগী। বিষয়টি জাদুটোনার মতোই কাজ করে।
কী এই ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’?
ধারণা করা হচ্ছে, এ ধরনের অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত এক মাদক। একে বিশ্বের ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মাদক’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ মূলত কলম্বিয়ার স্থানীয় উদ্ভিদ বোরাচেরো’র ফুল থেকে তৈরি হয়। এ পদার্থটির রাসায়নিক নাম স্কোপোলামিন বা হায়োসিন। এটি কিছু দেশে চিকিৎসার জন্য প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, স্কোপোলামিনের প্রভাবে কেউ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় অজ্ঞান থাকতে পারেন। কলম্বিয়ায় এই মাদকের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বলে জানা যায়। দেশটিতে প্রতি বছর আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষ এ ধরনের ঘটনার শিকার হন।
উচ্চ মাত্রায় গ্রহণ করলে এটি ‘শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে দিতে পারে, যা মৃত্যুর কারণও’ হতে পারে। তবে এমন প্রভাবের জন্য এই মাদক তরল বা গুঁড়ো আকারে খাদ্য ও পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে মুখ দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। সরাসরি মুখের সামনে ফুঁকে দেওয়ার মাধ্যমে এর এত তীব্র প্রভাব পড়ার বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘শয়তানের শ্বাস’ নামক মাদকটি মূলত লিকুইড ও শুকনো ধরনের হয়। এটি হেলুসিনেটিক মাদক। এটিকে বুরুন্ডাঙ্গা, কলম্বিয়ান ডেভিলস ব্রেথ, রোবট ড্রাগ, জম্বি ড্রাগ প্রভৃতি নামেও
ডাকা হয়। এই ড্রাগ ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি দূরত্ব থেকে শ্বাসের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। যার প্রতিক্রিয়া থাকে প্রায় ২০ থেকে ৬০ মিনিট। আবার এই মাদক খাবারের সঙ্গে খাওয়ালে বা ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করলে যার প্রতিক্রিয়া থাকে দু-তিনদিন। ত্বকে লাগিয়ে রাখলেও রক্তে মিশে কাজ করা শুরু করে এটি। এ মাদক গ্রহণে ভুক্তভোগীরা সম্পূর্ণভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এই সুযোগটি লুফে নেয় প্রতারকরা। এটিকে খালি চোখে দেখতে কোকেন পাউডারের মতো মনে হলেও এ থেকে ক্ষতির মাত্রা কোকেন পাউডারের থেকে কয়েকগুণ বেশি। এর ভয়াবহতা বোঝাতে গবেষকরা জানিয়েছেন, মাত্র ১ গ্রাম স্কোপোলামিন দিয়ে ১৫ জন মানুষকে হত্যা করা সম্ভব।
জানা গেছে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে বিশেষ করে কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, আর্জেন্টিনা, পেরু, চিলি প্রভৃতি দেশে এটি মাদক হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অপরাধীরা বিভিন্ন বয়সিদের যৌন মিলনে বাধ্য করতে এ মাদকটি ব্যবহার করে, পর্নোগ্রাফিক ভিডিও রেকর্ড করতে বা তাদের নগ্ন ছবি তোলার জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এটির ফলে যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






