চুপচাপ থাকা মানুষদের দিন আজ

আপনি কি একটু অন্তর্মুখী ধাঁচের? ক্লাস, অফিস কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অন্যদের সঙ্গে আলাপচারিতা থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পছন্দ করেন? বা খোলাখুলিভাবে সব জায়গায় মতামত প্রকাশ করতে পছন্দ করেন না? তাহলে আজকের দিনটি আপনার জন্যই।

কারণ আজ ওয়ার্ল্ড ইনট্রোভার্ট ডে বা বিশ্ব অন্তর্মুখী দিবস। এ ধরনের মানুষের অন্যতম বড় বিশেষত্ব হলো তারা বলেন কম, শোনেন বেশি। তবে তাঁদের এমন আচরণ প্রায়ই ভুল-বোঝাবুঝির উদ্রেক করে।

১৯০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুইস মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কার্ল জাং ক্লার্ক ইউনিভার্সিটির এক বক্তৃতায় ‘অন্তর্মুখী (ইন্ট্রোভার্টেড)’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। অন্যদিকে অন্তর্মুখী দিবসটির প্রচলন ২০১২ সালে, জার্মান মনোবিজ্ঞানী ফেলিসিটাস হেইনের মাধ্যমে। ২ জানুয়ারি বিশ্ব অন্তর্মুখী দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেন তিনি।

আসলে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন থেকে শুরু হয়ে যায় উৎসবের মৌসুম; ১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলতে থাকে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বর্ষবরণের হই-হুল্লোড়। এরপর ২ জানুয়ারিতে এসে অন্তর্মুখীরা কিছুটা নিরিবিলি কাটানোর সুযোগ পান। এজন্যেই ফেলিসিটাস ২ জানুয়ারিকে ইনট্রোভার্ট ডে হিসেবে পালনের প্রস্তাব রাখেন।

এই দিনটি উদযাপনের আরেকটি উদ্দেশ্য মানুষকে অন্তর্মুখী জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া; অন্তর্মুখীরা যেন আজ সব ব্যস্ততা পাশে সরিয়ে নিজস্ব ভাবনায় বুঁদ হয়ে থাকতে পারেন সেটি নিশ্চিত করা।

ইন্ট্রোভার্ট বা অন্তর্মুখী মানুষেরা একা থাকতে পছন্দ করেন। এই একা থাকাটাই তারা উপভোগ করে থাকেন ৷ এরা চট করে কোনো কিছুতে প্রতিক্রিয়া দেখান না; ফলে এদের মধ্যে ধৈর্যও অন্যের তুলনায় বেশি থাকে।

তারা সামাজিক আচার অনুষ্ঠান, হট্টগোল প্রভৃতি থেকে দূরে থাকতে চান। তাই তাঁদের প্রায়ই দুর্বল এবং বোকা বলে মনে করা হয়। আসলে তাঁদের একটি নিজস্ব জগত রয়েছে, যা সম্পূর্ণ আলাদা।

আপনিও যদি এই দলে পড়েন, তাহলে আজ নির্দ্বিধায় সব আয়োজন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। এরপর নিজের জগতে নিজস্ব ভাবনার সাগরে ডুব দিন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.