যেভাবে হলো হযরত টাকশাহ মিয়া (রহঃ) দরগাহ মসজিদ

টাকশাহ নামটি কিভাবে হল তা নিয়ে প্রচারিত আছে লোকমুখে বিভিন্ন শ্রুতি কথা। চট্টগ্রামকে বলা হয় বার আউলিয়ার শহর।অতি পবিত্র ও পুণ্যভূমি হিসেবে ধর্মীয় মর্যাদায় এর অবস্থান খুবই আলাদা। সাধক পণ্ডিত, জ্ঞানী মহান ইসলাম ধর্মের বাণী প্রচারকারী একজন সাধক হলেন হযরত শাহসুফী টাকশাহ মিয়া (রহ)। তিনি চট্টগ্রামের বার আউলিয়ার পুণ্যভূমির অন্যতম আউলিয়া। জ্ঞান, গুণী ও কারামত সমুজ্জ্বল এই মনীষীর পবিত্র মাজার রয়েছে চট্টগ্রামের নবাব সিরাজুদ্দৌলাহ সড়কে অর্থাৎ প্যারেড কর্ণারের পূর্ব সাইডে৷

হযরত টাকশাহ মিয়া (রঃ) এর এই নামের পিছনে একটা প্রবাদ আছে। লোকমুখে শোনা যায় এই দরবেশ টাক বাজাতেন। টাক হলো বাঁশের এক মাথায় গিরা বাকী রেখে উপরের অংশে দোফলা করে হাত তিনেক লম্বা যে জিনিসটি শব্দ সৃষ্টি করার জন্য তৈরি হতো, চট্টগ্রামের ভাষায় তার নাম ছিল টাক। এটার বৈশিষ্ট্য হলো বাঁশটিকে গোড়া থেকে ঝাঁকুনি দিলে উপরের অংশে টাক টাক শব্দ বের হতো।

আবার অন্যদিকে এই মাজার কিংবা মসজিদের নামকরণ নিয়ে অনেকে তো অনেক মতবাদ ব্যাক্ত করেন। কেউ কেউ মনে করে থাকেন এই মাজারের নামকরণের পিছনে রয়েছে অন্য ভিন্ন ইতিহাস।

নামের ঐতিহ্যের পাশাপাশি এই মসজিদের আরেকটি ঐতিহ্য হলো এখানে মহিলাদের নামাজের সুব্যবস্থা রয়েছে, এবং মহিলাদের ঈদের নামাজের আয়োজন করা হয় এই মসজিদে,যা খুব বিরল। নগরীর কয়েকটি সুসজ্জিত মসজিদের কথা বলতে গেলে এড়ানোর উপায় নেই এই সুসজ্জিত মোজাইক দিয়ে খচিত হযরত টাকশাহ মিয়া রঃ এর মাজার শরীফ।

একটা সময় এখানে ঘন জঙ্গলাভূমি ছিলো। মাজারের পশ্চিম দিকে প্যারেডের সমতলভূমি বাদ দিয়ে পুরো পাহাড়ি এলাকটি ঘন জঙ্গল ছিলো। এখান থেকে চট্টগ্রাম শহরের পাহাড়ের বিস্তৃতি শুরু হয়। পাহাড়গুলো বড়বড় গাছপালা ও বনজঙ্গলে ভর্তি ছিলো। এসব পাহাড়-জঙ্গল থেকে বনের হিংস্র প্রাণীসহ অন্যান্য জন্তুগুলো আন্ডাখানার দিকে আসতো অনেক সময় শিকারের খোঁজে নতুবা পাশে প্রবাহিত চাকতাই খালের স্বচ্ছ জলধারা থেকে সুপেয় পানি পান করতে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.