বাংলাদেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর

দেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে জানার সবচেয়ে ভাল উপায় হল সে দেশের জাদুঘর প্রদর্শন করা। এমনি এক জাদুঘর চট্টগ্রামের জাতি আত্ত্বিক জাদুঘর। জীবন যে কতটা বৈচিত্র্যময় হতে পারে তার কিছুটা হলেও আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত জাতি তাত্ত্বিক জাদুঘরে এলে। এটি দেশের একমাত্র জাতি-তাত্ত্বিক জাদুঘর।

চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় দেশের একমাত্র জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরে গেলে এমনটাই চোখে পড়বে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপন, সাংস্কৃতিক আচার, ঐতিহ্যের নমুনা সংরক্ষণের উদ্দেশ্যেই এই জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ১৯৬৫ সালে নির্মিত জাদুঘরটি ১৯৭৪ সালে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হয়। বর্তমানে জাদুঘরটিতে বাংলাদেশের ২৩টি জাতিগোষ্ঠীর পাশাপাশি পাকিস্তানের কয়েকটি জাতিগোষ্ঠীর নিদর্শন রয়েছে। বাঙালি জাতিসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপন, সাংস্কৃতিক আচার, পোশাক, অলংকারের নিদর্শন রয়েছে এতে। আলোকচিত্র, মডেল, নমুনার মাধ্যমে জাতিগোষ্ঠীগুলোর নিজস্বতা তুলে ধরা হয়েছে।

জাদুঘরটিতে মুরং গ্রাম্য জীবন, মুসলিম মনিপুরীদের পোষাক পরিচ্ছদ, খাসীয়া পল্লী জীবন, উপজাতীদের শিকার কাজে ব্যাবহকৃত যন্ত্র, ক্ষুদ্র নৃ গোষ্টি মুরংদের ব্যবহৃত অলংকার, বাঙালীদের গ্রামীণ জীবনে ব্যাবহৃত বিবিধ দ্রবাদি, ঐতিহ্যবাহী পোড়ামটির শিল্প, আবহমান বাংলার গ্রামীণ শিল্পজাত দ্রব্যাদি। এছাড়ও বাঙালি, চাকমা, মারমা, মুরং, সাঁওতাল, খাসিয়া, পারো, চাক, পালিয়া, কোচ, হদি, চাম্পুরা, খুমি, খ্যাংসহ বিভিন্ন জাতির সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের বিভিন্ন নিদর্শন এখানে দেখা যায়।

এ যেনো রূপকথার গল্পের মতে এক একটি দৃশ্যপট। যুগ-যুগান্তরের জাতিগোষ্ঠির স্বপ্নগুলো এখনো বেঁচে আছে স্বপ্নের দেয়ালে, কাঁচের ছোট্ট ঘরে। চট্টগ্রাম শহরের আগ্রাবাদে ছায়াসুনিবিড় দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে অবস্থিত দেশের একমাত্র এই জাতি-তাত্ত্বিক জাদুঘর। অথচ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের স্বার্থে আমাদের এইসব ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে বার্থ, এগুলোকে সংরক্ষন করা না গেলে অন্যথায় দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের যথাযথ সংরক্ষণে বিঘ্ন ঘটবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.