ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকের পর্তুগিজদের লেখায় বারবার উঠে এসেছে ‘সিটি অফ বাংলা’র নাম। এই ‘সিটি অফ বাংলা’ কিন্তু শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশের চট্টগ্রামও। পর্তুগিজরা সমুদ্রপথে চট্টগ্রামে আসে ১৫১৮ সালে। তখন থেকে এখন পর্যন্ত কেটে গিয়েছে প্রায় পাঁচশ বছর।
ব্যান্ডেল’ বলতে পর্তুগিজদের বসতির স্থানকে বোঝায়। পর্তুগিজরা সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে চট্টগ্রামে এসেছিল। তারা চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করেছিল। এ বসতি স্থানকে তারা ব্যান্ডেল বলত। চট্টগ্রামের পাথারঘাটার এউ ব্যান্ডেল রোড এখন তাদের স্মৃতিই বহন করে।
৫০০ বছর আগে প্রথম ইউরোপীয় আগমনকারী হিসাবে পর্তুগিজরা বাংলার পূর্ব প্রান্তের চট্টগ্রামে এসে প্রতিষ্ঠা করেছিল কয়েকটি শহর। প্রথমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও খ্রিস্টধর্ম প্রচার তাদের উদ্দেশ্য হলেও পরবর্তীতে লুটতরাজ ও দস্যুতায় মেতে উঠে পর্তুগিজ-হার্মাদরা।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে যায় চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে বাংলার নিম্নাঞ্চলে পর্তুগিজ কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহৃত হতো সেসব শহর। পর্তুগিজ শহরগুলোর কিছু এখনো ধ্বংসাবশেষ আকারে রয়েছে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ প্রান্তে। কিছু হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে কিংবা বঙ্গোপসাগরের অথৈ |জলরাশিতে।
এক সময় চট্টগ্রামকে প্রাচ্যের রানি অভিধা দিয়েছিলেন পর্তুগিজ ইতিহাসবিদ ক্যাম্পোজ। ক্যাম্পোজের মতনই চট্টগ্রামে এসে বসবাস করেছিলেন বহু পর্তুগিজ। তাঁদের স্মৃতিচিহ্ন আজও বহন করে চলেছে পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকার নাম সহ স্থাপনা। তন্মধ্যে উল্লেখ্য ব্যান্ডেল রোডের এই ক্যাথলিক গির্জা।






