লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, যা বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও এটি সাময়িক। ইরানের পারমাণবিক হুমকি শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে।

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিল’ তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য এবং শান্তির জন্য তেলের দাম কিছুটা বাড়া খুব বড় বিষয় নয়। এটি নিরাপত্তার জন্য ছোট একটি মূল্য। ইরানের পরমাণু হুমকি ধ্বংস হয়ে গেলে স্বল্পমেয়াদী তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে। যারা ভিন্নভাবে চিন্তা করে, তারা কেবল মূর্খ।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক দিনে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বিশ্ববাজারে প্রায় ২০ শতাংশ দাম বেড়েছে জ্বালানি তেলের, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পেছনে মূল কারণ ইরানের সঙ্গে মার্কিন ও ইসরাইলের সংঘাত, যা সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১৮.৩৫ ডলার বা ১৯.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১১.০৪ ডলারে পৌঁছেছে। আর মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ১৫.২৭ ডলার বা ১৬.৮ শতাংশ বেড়ে ১০৬.১৭ ডলারে পৌঁছেছে। সেশনের শুরুতে এটি ২০.৩৪ ডলার বা ২২.৪ শতাংশ বেড়ে ১১১.২৪ ডলারে পৌঁছেছিল। গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ২৭ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ৩৫.৬ শতাংশ বেড়েছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সপ্তাহ বা মাস ধরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মুখোমুখি হতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত সুবিধার সঙ্গে লড়াই করছে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ছে।

শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর থেকে তেলের চালান বাড়াচ্ছে, তবে শিপিং তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী থেকে তেলের ঘাটতি পূরণ করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়।

এএনজেডের সিনিয়র পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স বলেন, তেলের দাম বেড়েছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকরা গুদামে তেল জমা হওয়ার কারণে উৎপাদন কমাচ্ছেন। যদি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে তাদের তেলের কূপ বন্ধ করতে হয়, তাহলে শুধু উৎপাদন কমবে না, সংঘাত শেষ হলেও সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। এর ফলে দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকবে।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.