শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে কিনা বুঝবেন যেভাবে

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে শুধু দুর্বলতাই নয়, ধীরে ধীরে নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থা, বয়ঃসন্ধিকাল বা দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধির সময় আয়রনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যায়।

এ সময় পর্যাপ্ত আয়রন না পেলে ঘাটতি তৈরি হতে পারে। আবার অন্ত্রজনিত সমস্যা, যেমন ম্যালাবসোর্পশন ডিসঅর্ডার থাকলে খাদ্য থেকে যথেষ্ট আয়রন গ্রহণ করলেও শরীর তা ঠিকমতো শোষণ করতে পারে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক, আয়রনের অভাবে শরীরে কী কী লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে—

১. বিশ্রামের পরও অবসাদ কাটে না

দিনভর কাজের পর ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাক্ষণ অবসন্ন লাগে, তাহলে তা আয়রনের ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রন অপরিহার্য। আয়রনের মাত্রা কমে গেলে শরীরের টিস্যুতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না, ফলে স্থায়ী ক্লান্তি, দুর্বলতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।

২. ত্বক ফ্যাকাশে বা নিস্তেজ হয়ে যাওয়া

চোখের পাতা, ঠোঁটের ভেতরের অংশ বা নখ স্বাভাবিকের তুলনায় ফ্যাকাশে দেখালে তা প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। আয়রনের ঘাটতিতে হিমোগ্লোবিন কমে যায়, যা রক্তের লাল রঙের জন্য দায়ী। ফলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়। অনেকের ক্ষেত্রে নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া বা চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়।

৩. স্বাভাবিক কাজেই শ্বাসকষ্ট

হালকা কাজ, যেমন সিঁড়ি ওঠা বা গৃহস্থালির কাজের সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। আয়রন কম থাকলে শরীর পেশী ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যথেষ্ট অক্সিজেন পৌঁছে দিতে পারে না। এতে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের ওপর চাপ পড়ে এবং অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট হয়।

৪. ঘন ঘন মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা

মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে গেলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম ভাব দেখা দিতে পারে। কখনও কখনও মনোযোগে ঘাটতি বা ভুলে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে। শুরুতে লক্ষণগুলো হালকা থাকলেও চিকিৎসা না করলে তা তীব্র হতে পারে।

৫. অস্বাভাবিক খাবারের প্রতি আকর্ষণ (পিকা)

আয়রনের অভাবে ‘পিকা’ নামের একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেখানে বরফ, মাটি, খড়ি বা কাঁচা চালের মতো অখাদ্য জিনিস খাওয়ার ইচ্ছা হয়। এর মধ্যে বরফ খাওয়ার প্রবণতা, যাকে প্যাগোফ্যাগিয়া বলা হয়, বেশি দেখা যায়। অনেকেই বুঝতে পারেন না যে এটি আয়রন ঘাটতির লক্ষণ।

৬. রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম (RLS)

আয়রনের স্বল্পতার সঙ্গে রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে রাতে পায়ে অস্বস্তি বা অস্থিরতা অনুভূত হতে পারে। ডোপামিন নিয়ন্ত্রণে আয়রনের ভূমিকা রয়েছে, যা পেশীর নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। আয়রন কমে গেলে এ প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং RLS-এর উপসর্গ দেখা দেয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.