তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বর্ণের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ব্যাপক শুল্কের (ট্যারিফ) বড় অংশ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ার পর ডলারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সেই চাপ গিয়ে পড়েছে মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটার দিকে স্পট গোল্ড ১.১% বেড়ে প্রতি আউন্স ৫,১৬১.৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে এটি ৩০ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার্স ২% বেড়ে ৫,১৮৩ ডলারে ওঠে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে ব্যবসায়ীরা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক হিসেবে দেখছেন। এতে ডলারের দাম কমেছে, যদিও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের চন্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে মূল ভূখণ্ডের বাজার বন্ধ থাকায় স্বর্ণের লেনদেনের পরিমাণ কম এবং দাম অস্থির হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে লেনদেন পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে কিছুটা সীমিত করলেও এটি বাণিজ্য অংশীদার বা কোম্পানিগুলোর জন্য পুরোপুরি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটায়নি। তবে বাজারে স্বর্ণের ওপর চাহিদা বেড়ে গেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি অবস্থায় ব্যবহারের জন্য প্রণীত একটি আইনের আওতায় ট্রাম্প যে ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তার বড় অংশ বাতিল করে দেয়। এই ঐতিহাসিক রায় প্রেসিডেন্টের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।
আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প জানান, তিনি সব দেশের থেকে আমদানির ওপর আরোপিত অস্থায়ী শুল্ক ১০% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করবেন।
কেসিএম-এর প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, আদালতের ট্যারিফ-সংক্রান্ত রায়—যা মার্কিন প্রেসিডেন্টের অসন্তোষের কারণ হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে ট্রেডাররা প্রতিরক্ষামূলক বিনিয়োগ হিসেবে আবারও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।






