মোবাইল ফোন কি সত্যিই ব্রেন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়? গবেষণা যা বলছে

মোবাইল ফোন এখন নিত্যসঙ্গী। দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিদিনের কাজ, যোগাযোগ ও বিনোদন— সব কিছুতেই এই ছোট্ট ডিভাইসের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু এর সঙ্গে একটি প্রশ্নও বারবার ঘুরে-ফিরে আসছে— অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার কি ব্রেন ক্যানসারের কারণ হতে পারে?

এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা অনেকের দুশ্চিন্তা দূর করে দিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে ব্রেন ক্যানসারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই কিংবা পাওয়া যায়নি। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও ব্রেন ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়, এমন প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

টানা ১০ বছর মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছেন— এমন ব্যক্তির মধ্যেও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার মতো স্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গত কয়েক দশকে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ব্রেন ক্যানসারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে তা স্থিতিশীল রয়েছে।

অনেকের ধারণা— মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এ আশঙ্কার কারণেই ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিকে ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।

অস্ট্রেলিয়ান রেডিয়েশন প্রোটেকশন অ্যান্ড নিউক্লিয়ার সেফটি এজেন্সি এ গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছে।

এ পর্যালোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইল ফোন ও বেতার প্রযুক্তির স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় এবং বিভ্রান্তি রয়েছে। নতুন এ গবেষণা সেই ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতে সহায়ক বলে মনে করছেন তারা।

পাঁচ হাজারেরও বেশি কেস বিশ্লেষণ করে সংস্থাটির প্রধান গবেষক কেন ক্যারিপিডিস বলেছেন, আমাদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে— মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্ক কিংবা মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে না।

গবেষণা তথ্যানুযায়ী, মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে ব্রেন ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয় এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কমানো, চোখ ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়া সবসময়ই জরুরি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.