শীতকালে রক্তচাপ ওঠানামা করে বেশি। যারা হাইপারটেনশনের রোগী, তাদের এই সময়ে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি। বাইরের তাপমাত্রা যত কম, রক্তচাপ তত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আসলে ঠান্ডায় শরীরে রক্তনালিগুলো সঙ্কুচিত হয়ে যায়। তখন শরীরের সব অংশে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। হার্টকেও বেশি পাম্প করতে হয়। এ কারণে রক্তচাপও বাড়তে থাকে।
আর উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের সমস্যা থাকলে, এ সময়ে ব্লাডপ্রেশার আরও বেড়ে যেতে পারে এবং হার্টঅ্যাটাক ও স্ট্রোকও ঘটতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা জরুরি। কিন্তু কতদিন অন্তর মাপবেন এবং কোন সময় প্রেশার মাপবেন?
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ৩-৭ দিন অন্তর অন্তর প্রেশার মাপা উচিত। কিন্তু হাই ব্লাডপ্রেশারের রোগী হলে এ মৌসুমে প্রতিদিনই রক্তচাপ মাপতে হবে। দিনে দুই থেকে তিনবার প্রেশার মাপা জরুরি। এতে কখন রক্তচাপ বাড়ছে এবং কখন স্বাভাবিক থাকছে, তা সহজেই বোঝা যায়।
আর সকালে ব্রেকফাস্ট এবং ওষুধ খাওয়ার আগে একবার প্রেশার চেক করে নিন। একইভাবে সন্ধ্যাবেলা প্রেশার চেক করতে পারেন। তবে প্রেশারের পরিমাপ করার সময়ে ৫ মিনিট একদম শান্ত ও স্ট্রেস ফ্রি থাকুন। তবেই ঠিকঠাক রিডিং আসবে। এ ছাড়া ৩০ মিনিট আগে কোনো রকম শরীরচর্চা বা কায়িক পরিশ্রম করবেন না। এমনকি এড়িয়ে চলুন চা-কফি, মদপান ও ধূমপানও। তবেই ঠিকঠাক রিডিং পাবেন।
দিনে ২-৩ বার প্রেশার মাপার পর প্রতিবারই যদি রক্তচাপ ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি আসে, তখন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। এ ছাড়া হঠাৎ যদি প্রেশার বেড়ে যায়, ১৮০/১২০ mmHg বা তার বেশি হয়, তখন দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তীব্র মাথাব্যথা, বুকে চাপ লাগা, শ্বাসকষ্ট, ঝাপসা দৃষ্টি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণগুলো বুঝতে পারলে প্রেশার চেক করে নিন। তাই প্রেশার স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি আসে, তখন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।






