নিজের ওজন সামলাবেন কীভাবে জেনে নিন

শীতকালে আপনার শরীরে রোদ কম লাগে। ফলে আপনার শরীর ভিটামিন তৈরি করতে পারে না। এতে আপনার শরীরে ‘সেরোটোনিন’ হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে। যার ফলে আপনার খিটখিটে মেজাজ, বিরক্তি ও অধৈর্য ভাব দেখা দিতে পারে। আর মনমেজাজ খারাপ থাকলে মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। তাই সম্ভব হলে প্রতিদিন অন্তত ১০-১৫ মিনিট রোদে বসার চেষ্টা করুন। তা না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন ‘ডি’-এর বিকল্প ওষুধ খাওয়া শুরু করুন।

আর ঘুমের অভাব হলেও আপনার শরীরের স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’ বেড়ে যায়। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকেও মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম যাতে হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

এ ছাড়া শীতকাল গুড়ের মিষ্টি ছাড়া অসম্পূর্ণ হয়। তবে শীতের মিষ্টির জোগান সেখানেই থেমে থাকে না। কেক, পেস্ট্রি আর কুকির পাশাপাশি শীতের গাজরের হালুয়া, পিঠে পুলি ও মোয়ার মতো মিষ্টির টানও এড়ানো মুশকিল। তার চেয়েও বেশি মুশকিল শীতকালীন মিষ্টিপ্রেম থেকে বেড়ে যাওয়া মেদ কমানো বাইরে কনকনে ঠান্ডা। তার মধ্যে শরীর উষ্ণ রাখতে হলে চাই বাড়তি ক্যালোরি এবং বাড়তি শক্তি।

শীতে তাই মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই ঝোঁক বাড়ে। কারণ মিষ্টিজাতীয় খাবার সবচেয়ে সহজে ও সবচেয়ে দ্রুত শক্তির জোগান দিয়ে থাকে। হয়তো সে জন্যই শীতে নানা ধরনের মিষ্টি খাবারও পাওয়া যায় বেশি। প্রকৃতি নিজেই খেজুরের রসের ডালি উপচে দেয়, যা থেকে তৈরি হয় নলেন গুড় এবং গুড়ের মিষ্টি। শীতকাল ওই গুড়ের মিষ্টি ছাড়া অসম্পূর্ণ। তাই অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা সময় থাকতে কমানো দরকার। কীভাবে কমাবেন?

১. পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন ও ফাইবার

মিষ্টির নেশা কাটানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো পেটভর্তি রাখা। খাবারে বিশেষ করে প্রাতরাশে ও দুপুরে পর্যাপ্ত প্রোটিন (যেমন ডিম, মাছ, মাংস বা ডাল) রাখুন। রাখুন যথেষ্ট পরিমাণ ফাইবারও (যেমন শাকসবজি ও ফল ইত্যাদি)। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। ফাইবার শরীরে শক্তির জোগান দেয় ধীরগতিতে। ফলে যখন তখন মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হয় না।

২. প্রাকৃতিক মিষ্টি

যখনই খুব মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করবে, তখনই চিনি বা দোকান থেকে কেনা মিষ্টির বদলে মিষ্টি স্বাদের শুকনো ফল, যেমন খেজুর বা কিশমিশ অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। আপেল, কমলালেবু, কলা, পেঁপে এবং পেয়ারার মতো মিষ্টি ফল খেয়েও মিষ্টির অভাব পূরণ করতে পারেন। এতে মিষ্টি স্বাদও মিলবে, শরীরে ভিটামিন সি-ও যাবে।

৩. প্রচুর পরিমাণে পানি পান

শীতে পানি কম খাওয়া হয়। আর মস্তিষ্ক তেষ্টাবোধকে খিদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে। শীতকালে শরীরে পানির অভাবের কারণে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে জাগতে পারে। তাই সারাদিন অল্প অল্প করে কুসুম কুসুম গরম পানি পান করুন। এতেও মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে কমবে।

৪. ভেষজ চা

আদা, লবঙ্গ ও দারুচিনির মতো মসলায় প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব আছে। মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমাতে তা সাহায্যও করতে পারে। আদা ও দারুচিনি উভয়েই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দক্ষ। লবঙ্গেও রয়েছে জোরালো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীর সুস্থ রাখতে উপকারী। শীতে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে হলে এসব মসলা দিয়ে চিনি ছাড়া চা অথবা গ্রিন টি পান করলে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়।

৫. ম্যাগনেশিয়ামের দিকে নজর দিন

আপনার শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলে চকলেট বা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে বেড়ে যায়। তাই ডায়েটে কুমড়ার বীজ, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম এবং পালংশাক বেশি করে রাখার চেষ্টা করুন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.