চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক নিদর্শন হযরত মোহছেন আউলিয়া (রহ.)-এর মাজার।

চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম হযরত মোহছেন আউলিয়া (রহ.)-এর মাজার। শত শত বছর ধরে এটি অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে শান্তি, আস্থা এবং শ্রদ্ধার প্রতীক হয়ে আছে। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্ত-অনুরাগী আসেন এখানে দোয়া-প্রার্থনা ও মানত পূরণের আশায়।

হযরত শাহ মোহসেন আউলিয়ার (রহ.) আদি নিবাস ইয়েমেনে। তাঁর পূর্বপুরুষের পরিচয় জানা না গেলেও বিভিন্ন ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে তিনি একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান ছিলেন। ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তিনি ইসলাম প্রচারে নেমে যান। তিনি ইয়েমেন থেকে প্রথমে ভারতে গৌড় রাজ্যে আগমন করেন। গৌড়রাজ্য তখন শিক্ষা, শিল্প সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। গৌড়রাজ্যে কিছুদিন অবস্থান করার পর হযরত শাহ মোহসেন আউলিয়া (রহ.) পানি পথে চট্টগ্রামে আগমন করেন।

জনশ্রুতিতে জানা যায়, হযরত বদর শাহ্‌ (রহ.) এবং হযরত মোহছেন আউলিয়া (রহ.) আনোয়ারা থানার গহিরা গ্রামের ৮ মাইল পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের তীরে ইছাখালী গ্রামের কড়ির হাট বন্দরে অবতরণ করেন। কথিত আছে, হযরত মোহছেন আউলিয়া (রহ.) একটি পাথরকে বাহন বানিয়ে সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পন্ন কামেল পুরুষ ও শ্রেষ্ঠ সাধক হিসাবে সেখানে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন এবং দলে দলে মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং সেখানেই গড়ে ওঠে বার আউলিয়া আস্তানা।

বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার ও ইসলামি বিশেষ দিবসে এখানে ভক্তদের ভিড় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এ সময় আশেপাশের এলাকা যেন এক মিলনমেলায় রূপ নেয়। স্থানীয়রা জানান, শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিকভাবে মাজারটি তাদের জীবনের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। মানুষ এখানে মানত করে, সুস্থতার জন্য দোয়া চায়, আবার অনেকে শুধু মানসিক প্রশান্তি খুঁজতেও আসেন।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Welcome Back!

Login to your account below

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.