চট্টগ্রামের প্রাণ, ঐতিহ্য আর গৌরবের প্রতীক কর্ণফুলী নদী আজ দখল আর দূষণের করুণ শিকার। একসময় এই নদীর বুকেই গড়ে উঠেছিল বন্দরনগরীর বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও সভ্যতার ধারাবাহিকতা। কিন্তু আজ প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তুপে ভরে গেছে নদীর প্রতিটি মোহনা, প্রতিটি ঘাট।
অব্যবস্থাপনা, সচেতনতার অভাব আর নির্দিষ্ট কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ না থাকায় কর্ণফুলীতে নেমে আসছে নগরীর হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য। বাজার, শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে বাসাবাড়ির ব্যবহার শেষে এসব প্লাস্টিক কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ফেলা হচ্ছে সরাসরি নদীতে। ফলে নদীর পানি হয়ে উঠছে মারাত্মকভাবে দূষিত, নষ্ট হচ্ছে নদীর পরিবেশব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিক বর্জ্য কেবল নদীর জলজ জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংস করছে না, বরং তা ধীরে ধীরে মানুষের জীবনেও ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। মাছের পেটে গিয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করছে মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে। এতে দীর্ঘমেয়াদে সৃষ্টি হতে পারে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই নদীকে রক্ষায় নেই কার্যকর উদ্যোগ। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালানো হলেও তা ছিল শুধুই দেখানোর জন্য। দখল আর দূষণের দাপটে কর্ণফুলী আজ মুমূর্ষু।
স্থানীয়রা বলছেন, কর্ণফুলীকে বাঁচাতে হলে অবিলম্বে প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। নদী দখলমুক্ত করার পাশাপাশি গড়ে তুলতে হবে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। অন্যথায় বন্দরনগরীর ঐতিহ্যবাহী এই নদী একদিন হারিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়।






